দেনায় ডুবে থাকা বাংলাকে বাঁচাতে কেন্দ্রের ‘মার্শাল প্ল্যান’ চান অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিধ্বংসী ধাক্কায় পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল জার্মানির অর্থনীতি। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করেছিল আমেরিকার দেওয়া বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ, যা ইতিহাসে ‘মার্শাল প্ল্যান’ নামে পরিচিত। এবার ধুঁকতে থাকা বাংলার অর্থনীতিকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলতেও ঠিক তেমনই এক ‘মার্শাল প্ল্যান’ চাইলেন রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সরাসরি না বললেও, ইতিহাসবিদ-অর্থমন্ত্রী যে আসলে কেন্দ্রের বড়সড় আর্থিক প্যাকেজের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন, তা স্পষ্ট।
সামনেই রাজ্য বাজেট। তার আগে দায়িত্ব নিয়েই দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক সারেন স্বপন দাশগুপ্ত। এরপরই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের বেহাল অর্থনৈতিক দশা ফেরানোর রণকৌশল স্পষ্ট করেন তিনি। অর্থমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে কোনো করের বোঝা চাপানো হবে না। বরং কর না বাড়িয়ে কীভাবে রাজ্যের রোজগার বাড়ানো যায়, সেটাই তাঁর কাছে আসল চ্যালেঞ্জ।
আগের তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে বিগত সরকার বহু ক্ষেত্রে বকেয়া রাজস্ব পুরোপুরি আদায় করেনি। ফলে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থায় বড়সড় ফাঁকফোকর তৈরি হয়েছে। এখন সেই ‘লিকেজ’গুলো বন্ধ করাই হবে নতুন সরকারের প্রধান কাজ।
রাজ্যের আয়ের উৎস নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “বলতেও খারাপ লাগে যে আমাদের রাজ্যে মূল আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে মদ আর পেট্রল। ওটাকে আরেকটু প্রসারিত করতে হবে। অনেক জায়গায় রাজস্বের বড়সড় ঘাটতি বা ‘ট্রান্সমিশন লস’ রয়েছে, কোষাগারের সেই ফাঁকগুলো আমাদের দ্রুত বন্ধ করতে হবে।”
তবে বাজেট তৈরির ক্ষেত্রে বড় বাধা যে জিএসটি (GST), তাও মেনে নিয়েছেন তিনি। কারণ জিএসটি-র বিষয়টি এখন পুরোপুরি রাজ্যের হাতে নেই, তা ঠিক করে জিএসটি কাউন্সিল। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বহু প্রতীক্ষিত ডিএ (DA) বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত জটিল এবং সব সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়। তবে তিনি এই সমস্যাটি খুব ভালো করেই জানেন এবং বিষয়টি তাঁর নজরে রয়েছে।
