দেশের চিকিৎসায় কেন অনীহা? চোখের চিকিৎসার জন্য ফের সুপ্রিম কোর্টে অভিষেক! – এবেলা

দেশের চিকিৎসায় কেন অনীহা? চোখের চিকিৎসার জন্য ফের সুপ্রিম কোর্টে অভিষেক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট এবং শীর্ষ আদালত—দুই জায়গাতেই আবেদন খারিজ হওয়ার পর এই আইনি লড়াই নতুন মাত্রা পেল। দেশের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না করিয়ে বিদেশে যাওয়ার এই জেদকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতা আরও বাড়তে শুরু করেছে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানান অভিষেক। গত ২০ জুলাই সেই আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। শুনানি চলাকালীন আদালত প্রশ্ন তোলে, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ কি কখনও কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে গেছেন?

আদালত স্পষ্ট জানায়:

“কলকাতার হাসপাতালে আপনার চিকিৎসা করানোই হয়নি। এ দেশে যদি ওই চিকিৎসা সম্ভব না হয়, কেবল তখনই আদালত বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে।”

এর পাশাপাশি, অভিষেকের চোখ পরীক্ষার জন্য কলকাতার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। বোর্ড যদি মনে করে বিদেশে চিকিৎসা জরুরি, তবেই অনুমতি দেওয়া সম্ভব—এমনটাই জানানো হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টে লড়াই ও আবেদনের ভবিষ্যৎ

হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেকের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করা সত্ত্বেও তাঁকে বিদেশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ সেই সময় আবেদন খারিজ করে মামলাটি হাইকোর্টেই ফেরত পাঠায় এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

কেন এসএসকেএমে আপত্তি?

হাইকোর্টে শুনানির সময় বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের অনেক বিচারপতিও দেশের চিকিৎসকদের ওপর আস্থা রাখেন, তাই অভিষেকেরও এসএসকেএমে যাওয়া উচিত।

তবে অভিষেকের আইনি দল এই প্রস্তাবে শুরু থেকেই রাজি নয়। আইনজীবী রেবেকা জন আদালতে সাফ জানান, তাঁর মক্কেল এসএসকেএমে চিকিৎসা করাতে ইচ্ছুক নন, তিনি বিদেশেই যেতে চান।

হাইকোর্টে আবেদন খারিজ হওয়ার পর এখন অভিষেকের বিদেশযাত্রার ভাগ্য পুরোপুরি নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ওপর। রাজনৈতিক মহল এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *