“দেহদানে লাভ নেই!”—স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত দাবিতে ফুঁসছে চিকিৎসকমহল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মরণোত্তর দেহদান নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাল চিকিৎসকমহল ও সামাজিক সংগঠনগুলো। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, মরণোত্তর দেহদানের কোনো প্রকৃত প্রয়োজন নেই এবং আবেগের বশে পুরো শরীর দান না করাই ভালো। এমনকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর দেহও চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো কাজে লাগেনি বলে দাবি করেন তিনি। একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও দায়িত্বশীল মন্ত্রী হয়ে তাঁর মুখে এমন কথা শুনে স্তম্ভিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে দেহদান আন্দোলনের কর্মীরা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অ্যানাটমির প্রবীণ চিকিৎসক ডা. শিবশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, অ্যানাটমি শিক্ষা, মেডিক্যাল পড়ুয়াদের ডিসেকশন, গবেষণা এবং সার্জিক্যাল ওয়ার্কশপের জন্য মৃতদেহের ভূমিকা অপরিহার্য। একইভাবে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী বাস্তব শব ব্যবচ্ছেদ ছাড়া চিকিৎসাশিক্ষা আসাম্পূর্ণ; কোনো থ্রি-ডি মডেল বা সিমুলেটর এর বিকল্প হতে পারে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দেহদান আন্দোলনের অন্যতম মুখ ও ‘গণদর্পণ’-এর সম্পাদক সুদীপ্ত সাহা রায়। জ্যোতি বসুর দেহ কাজে লাগেনি—মন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে তিনি জানান, ১৭ বছর পর এমন দাবি ভিত্তিহীন। এসএসকেএম হাসপাতালের অ্যানাটমি বিভাগে জ্যোতি বসুর দেহের ডিসেকশন হয়েছিল এবং মেডিক্যাল পড়ুয়ারা তা থেকে শিক্ষা ও গবেষণা চালিয়েছেন।
অন্যদিকে, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অরিন্দম বিশ্বাস কিছুটা ভারসাম্যের কথা জানিয়ে বলেন, বিদেশে থ্রি-ডি মডেলের ব্যবহার থাকলেও ভারতের পরিকাঠামো ও খরচের কথা ভাবলে বাস্তবে এখনো মৃতদেহের ওপর নির্ভর করাই একমাত্র পথ। সব মিলিয়ে, মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে।
