‘ধর্মেন্দ্রকে সরান, সোনমকে শিক্ষামন্ত্রী করুন!’ যন্তর-মন্তরে দাঁড়িয়ে মোদী সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি কেজরিওয়ালের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নিট (NEET) সহ একাধিক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় বেনিয়ম এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে উত্তাল গোটা দেশ। এই পরিস্থিতিতে খোদ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণ দাবি করে বসলেন আম আদমি পার্টি (AAP)-র সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। শুধু তাই নয়, তাঁর জায়গায় আন্দোলনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে শিক্ষামন্ত্রী করার নজিরবিহীন প্রস্তাবও দিলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
কী বলেছেন কেজরিওয়াল? বৃহস্পতিবার দিল্লির যন্তর-মন্তরে অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন কেজরিওয়াল। আন্দোলনকারীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি এক্স (X) হ্যান্ডেলে লেখেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে সরিয়ে সোনম ওয়াংচুককে দেশের শিক্ষামন্ত্রী করা উচিত।” কেন্দ্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি ২০১১ সালের আন্না হাজারের আন্দোলনের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। আপ সুপ্রিমো বলেন, “২০১১ সালের ৪ এপ্রিল এই যন্তর-মন্তরেই আমরা আন্দোলনে নেমেছিলাম। অহংকারের বশে মানুষের কথা না শোনায় ঠিক তিন বছর পর তৎকালীন সরকার ক্ষমতা হারিয়েছিল।” দেশের যুবসমাজের স্বার্থে কেন্দ্রকে দ্রুত পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
সোনম ওয়াংচুকের বর্তমান অবস্থা:
- লাগাতার অনশন: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে যন্তর-মন্তরে অনশনে বসেছেন সোনম। তাঁর এই আন্দোলন ২৫ দিন পার করল।
- অবনতিশীল স্বাস্থ্য: অনশনের জেরে তাঁর ওজন প্রায় ৯ কেজি কমে গিয়েছে। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে, যা পেশি ভেঙে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
- অনড় অবস্থান: শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলেও অনশন ভাঙতে নারাজ এই পরিবেশবিদ। বরং আগামী ২০ জুলাই বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন ‘সংসদ চলো’ অভিযানের জন্য সমর্থকদের প্রস্তুত হতে বলেছেন তিনি।
উদ্বিগ্ন আদালত ও আইনজীবী মহল: সোনমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (SCBA) এবং দিল্লি হাইকোর্ট। বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিকাশ সিং ব্যক্তিগতভাবে যন্তর-মন্তরে গিয়ে তাঁকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি লেখেন, “এই ভেঙে পড়া ব্যবস্থার জন্য আপনার জীবন দেওয়ার প্রয়োজন নেই।” অন্যদিকে, দিল্লি হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রতিটি নাগরিকের জীবন মূল্যবান। আদালত কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারকে প্রতিদিন সোনমের শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখার এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে।
