‘ধুরন্ধর’ স্টাইলে পাকিস্তানে জঙ্গি খতম! ভারতে এজেন্ট রয়েছে দলেই, স্বীকারোক্তি লস্কর নেতার – এবেলা

‘ধুরন্ধর’ স্টাইলে পাকিস্তানে জঙ্গি খতম! ভারতে এজেন্ট রয়েছে দলেই, স্বীকারোক্তি লস্কর নেতার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পাকিস্তানের মাটিতে যেন হুবহু রিল লাইফ সিনেমা ‘ধুরন্ধর’-এর মতো টানটান ড্রামা! অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীদের বুলেটে একের পর এক তছনছ হয়ে যাচ্ছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘লস্কর-ই-তৈবা’র (Lashkar-e-Taiba) ডেরা। গত তিন-চার বছরে পাকিস্তানের অভ্যন্তরেই খতম করা হয়েছে ৩০ জনেরও বেশি কুখ্যাত জঙ্গিকে। অবশেষে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করে নিল এক লস্কর-ঘনিষ্ঠ নেতা।

তার দাবি, সংগঠনের ভেতরেই ভারতীয় এজেন্টরা ছদ্মবেশে ঢুকে পড়ে এই একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া মে মাসের একটি ভিডিওতে লস্কর-ঘনিষ্ঠ রিজওয়ান হানিফকে এই বিস্ফোরক দাবি করতে দেখা গেছে। পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, মুজাফফরাবাদ এবং রাওয়ালাকোটের মতো পাকিস্তানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে তাদের শীর্ষ কর্মীদের নিশানা করা হচ্ছে বলে সে অভিযোগ তোলে। হানিফের মতে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ‘অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজ মডেল’ ব্যবহার করে বেছে বেছে জঙ্গিদের নিকেশ করছে, যার ফলে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে তাদের ক্যাডাররা কার্যত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

ভারতের অবস্থান: পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক হেভিওয়েট জঙ্গি নিহতের ঘটনায় বারবার ভারতের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে ইসলামাবাদ। তবে নয়াদিল্লি প্রতিবারই অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে সেই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও লস্করের মতো কট্টর সন্ত্রাসী সংগঠনের শীর্ষ নেতার মুখে নিজেদের এই বিপর্যয়ের কথা মেনে নেওয়া আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে এক বিরল ঘটনা।

ভিডিওর একপর্যায়ে হানিফকে চরম উস্কানিমূলক ভাষণ দিতে এবং নিহত জঙ্গিদের আড়াল করতে হিন্দু ও ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করতেও শোনা যায়।

লস্কর-ই-তৈবার ইতিহাস:

উল্লেখ্য, আশির দশকের শেষের দিকে হাফিজ মহম্মদ সাইদ, জাফর ইকবাল এবং আবদুল্লাহ আজ্জাম যৌথভাবে লস্কর-ই-তৈবা প্রতিষ্ঠা করে। আফগান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তারা ভারতের জম্মু-কাশ্মীরকে প্রধান লক্ষ্য বানায়। ২০০৮ সালের মুম্বই হামলাসহ একাধিক বড়সড় সন্ত্রাসী হামলার নেপথ্যে থাকা এই সংস্থাকে ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *