ধূমপান না করলেও ফুসফুসে ক্যান্সার! নারীদের মধ্যে দ্রুত বাড়া এই মরণব্যাধির আসল কারণ কী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: সাধারণ হাঁজল বা একটানা কাশির চিকিৎসা করাতে গিয়ে জানা গেল ফুসফুসে বাসা বেঁধেছে ক্যান্সার! ৫০ বছর বয়সী এক নারীর ক্ষেত্রে সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে ধরা পড়েছে এই ভয়াবহ সত্য। উদ্বেগজনক বিষয় হলো—তিনি জীবনের কোনোদিন ধূমপান করেননি।
একসময় ফুসফুসের ক্যান্সারকে কেবল বয়স্ক ধূমপায়ী পুরুষদের রোগ বলে মনে করা হলেও, বর্তমানে ভারতে অধূমপায়ী এবং নারীদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
পরিসংখ্যানের ভয়াল চিত্র
- মৃত্যুর হারে শীর্ষে: Globocan 2024-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতে ১,১২,৬৫৯ জন নতুন ফুসফুসের ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯৮,৬৮৭ জনের। ক্যান্সারে মোট মৃত্যুর নিরিখে এটি বর্তমানে দেশে প্রথম স্থানে।
- নারীদের আক্রান্তের হার বৃদ্ধি: গত দুই দশকে ভারতে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০০৪ সালে মোট রোগীর ২০% ছিলেন নারী, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০%-এ (এক বছরে ৩৩,৬০০-এরও বেশি নারী)।
- অধূমপায়ীদের ঝুঁকি: বিভিন্ন হাসপাতালের গবেষণা বলছে, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ১৫% থেকে ৩৫% রোগী জীবনে কখনোই ধূমপান করেননি।
ধূমপান না করলেও কেন হচ্ছে এই ক্যান্সার?
চিকিৎসকদের মতে, কেবল সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়া নয়, অধূমপায়ীদের এই রোগের শিকার হওয়ার পেছনে বেশ কিছু বড় কারণ রয়েছে:
- বায়ুদূষণ ও রান্নার ধোঁয়া: গৃহস্থালির রান্নার বিষাক্ত ধোঁয়া ও পরিবেশের মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণ।
- পরোক্ষ ধূমপান (Passive Smoking): অন্যের ধূমপানের ধোঁয়া শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশ করা।
- জিনগত পরিবর্তন (EGFR Mutation): অধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে জিনগত পরিবর্তন ফুসফুসের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ।
- ক্ষতিকর গ্যাসের প্রভাব: কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা রেডন গ্যাসের সংস্পর্শে আসা।
কেন এত প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে এই ব্যাধি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের বড় সমস্যা হলো দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া। প্রথম দিকে লক্ষণগুলো এতটাই সামান্য থাকে যে বোঝা যায় না। অনেক সময় দীর্ঘদিন কাশি বা শ্বাসকষ্টকে যক্ষ্মা (TB) বা হাঁজল মনে করে ভুল চিকিৎসা চলতে থাকে। এছাড়া ফুসফুসের আকার বড় হওয়ায় টিউমারটি ভেতরের দিকে নীরবে বড় হতে থাকে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: যেকোনো সাধারণ কাশি বা শ্বাসকষ্ট দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে এবং চিকিৎসাতেও না কমলে তা অবহেলা না করে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়লে এই ক্যান্সার থেকে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
