ধৃত ওসি মনোরঞ্জনকে ঘিরে নতুন বিস্ফোরণ, ‘কাটমানি’ থেকে হাওয়ালা—আদালতে কী জানাল ইডি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কয়লা পাচার মামলায় আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের প্রাক্তন সাব-ইন্সপেক্টর তথা ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের গ্রেফতারির পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) আদালতে দাবি করেছে যে, কয়লা পাচারের আড়ালে সুসংগঠিত সিন্ডিকেট তৈরি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন চালানো হতো। এই চক্রে পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত থেকে পাচারে সহায়তার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ ও ‘কাটমানি’ আদায় করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তিন সিন্ডিকেটের জাল এবং কোটি টাকার লেনদেন
তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী, কয়লা পাচারের এই বিশাল সাম্রাজ্য মূলত তিনটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। এর মধ্যে দুটি সিন্ডিকেট পশ্চিমবঙ্গ থেকে এবং একটি ঝাড়খণ্ড থেকে সক্রিয় ছিল। ধৃত পুলিশ কর্মকর্তা মনোরঞ্জন মণ্ডলের বিভিন্ন মাধ্যম ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে ইতিমধ্যে প্রায় সাত কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের হদিস মিলেছে। শুধু নিজের নামেই নয়, তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও বিপুল অর্থ আদান-প্রদান করা হয়েছে বলে ইডির পক্ষ থেকে প্রমাণ দাখিল করা হয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও হাওয়ালা যোগসূত্র
অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে ‘মনোরঞ্জন ওসি’ নামের বিপরীতে নগদ ২৫ লক্ষ এবং ৫০ লক্ষ টাকা জমার সুস্পষ্ট হিসাব রয়েছে। এছাড়া, আসামিদের মোবাইল থেকে বিভিন্ন কারেন্সি নোটের ছবি উদ্ধার করা হয়েছে, যা সাধারণত হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইডি আরও জানিয়েছে, টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কাটমানি দাবি করা হতো। এই দুর্নীতির জাল কেবল রাজ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং প্রায় ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা জোগাড় করে হাওয়ালার মাধ্যমে দিল্লিতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে পাঠানোর শক্তিশালী ইঙ্গিত মিলেছে।
আইনি লড়াই ও সম্ভাব্য প্রভাব
দীর্ঘদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর ইডির জালে ধরা পড়া মনোরঞ্জনের আইনজীবী অবশ্য আদালতে তাঁর মক্কেলের জামিনের আবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, মনোরঞ্জন কখনও পদের অপব্যবহার করেননি। তবে আদালত কক্ষে ইডির পক্ষ থেকে চেক, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট সহ একাধিক অকাট্য নথি জমা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার ফলে কয়লা খনি অঞ্চলগুলোতে পুলিশ ও অপরাধী চক্রের গভীর আঁতাত যেমন প্রকাশ্যে এসেছে, তেমনই বালি পাচারের মতো অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ চুরির ঘটনাতেও ধৃত কর্মকর্তার নাম জড়িয়ে যাওয়ায় তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে চলেছে।
