নজিরবিহীন বাংলা: বুথমুখী সাধারণ মানুষও! দেশসেরা ভোটদানের হারে রেকর্ড ভাঙল পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এক নজিরবিহীন পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের তুলনায় রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫১ লক্ষ হ্রাস পেলেও ভোটদাতার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩০ লক্ষ। প্রথম দুই দফার ভোট শেষে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের গড় ভোটদানের হার ৯২.৯৩ শতাংশ স্পর্শ করেছে, যা ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে যেকোনো বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি সর্বভারতীয় রেকর্ড। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের বুথমুখী হওয়া রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রেকর্ড ভোটদানের নেপথ্যে নতুন ভোটার ও সচেতনতা
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ বছর প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ১০ হাজার করে অতিরিক্ত ভোট পড়েছে। বিশেষ করে প্রথম দফার আসনগুলোতে এই বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল চোখে পড়ার মতো, যেখানে কেন্দ্রপ্রতি গড়ে ১৪,২৩৭ জন বেশি ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন যারা ভোট প্রক্রিয়ার বাইরে ছিলেন অথবা যারা সাধারণত বুথমুখী হতেন না, তাদের একটি বড় অংশ এবার সক্রিয়ভাবে শামিল হয়েছেন। ভোটার তালিকা থেকে ভুয়া নাম বাদ যাওয়ায় মোট সংখ্যা কমলেও প্রকৃত সচেতন ভোটারদের উপস্থিতি এই হারকে আকাশচুম্বী করে তুলেছে।
ফলাফলে প্রভাব ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
সাধারণত ভোটদানের হার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলে সেটিকে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া হিসেবে গণ্য করার একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে। ২০১১ সালে রাজ্যে ৮৪.৩৩ শতাংশ ভোট পড়ার পর দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটেছিল। তবে শাসক শিবির লোকসভা ও গত বিধানসভা নির্বাচনের উদাহরণ টেনে দাবি করছে, উচ্চ হারে ভোটদান অনেক সময় বর্তমান সরকারের স্থিতিশীলতার পক্ষেও যায়। যেহেতু বুথফেরত সমীক্ষাগুলোতে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তাই এই ৩০ লক্ষ অতিরিক্ত ভোটই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ভাগ্যনির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।
এক ঝলকে
- ২০২১ সালের তুলনায় রাজ্যে ভোটার সংখ্যা ৫১ লক্ষ কমলেও ভোট বেড়েছে ৩০ লক্ষ।
- দুই দফা শেষে বাংলায় ভোটদানের হার ৯২.৯৩ শতাংশ, যা একটি সর্বভারতীয় রেকর্ড।
- প্রথম দফায় প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে গড়ে ১৪,২৩৭টি বেশি ভোট পড়েছে।
- বিপুল এই বাড়তি ভোট শাসক না বিরোধী কার পাল্লা ভারী করবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
