নজিরবিহীন রাজনৈতিক ডামাডোল, চন্দননগর পুরনিগমে মেয়রসহ ৩০ কাউন্সিলরের গণইস্তফা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই প্রথম কোনো বড় পুরনিগম বোর্ডে বড়সড় ভাঙন দেখা দিল। চন্দননগর পুরনিগমের মেয়র রাম চক্রবর্তীসহ ৩০ জন কাউন্সিলর একযোগে পদত্যাগ করেছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে প্রথমে ছয়জন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করেন। এরপর রাতে আরও ২৪ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করলে চন্দননগরের রাজনীতিতে চরম শোরগোল পড়ে যায়। পদত্যাগী কাউন্সিলররা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারের কাছে ইমেলের মাধ্যমে নিজেদের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।
৩৩টি ওয়ার্ড বিশিষ্ট চন্দননগর পুরনিগমে ৩১টি ওয়ার্ডই ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে এবং বাকি দুটি ওয়ার্ড ছিল বামফ্রন্টের। বর্তমান পরিস্থিতিতে ৩১ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের মধ্যে ৩০ জনই পদত্যাগ করায় পুরবোর্ড কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। কেবল একজন তৃণমূল কাউন্সিলর এই মুহূর্তে পদত্যাগ করেননি। চন্দননগরের পাশাপাশি গঙ্গার ওপারে উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের ভাটপাড়া, উত্তর ব্যারাকপুর, হালিশহর, নোয়াপাড়া ও টিটাগড় পুরসভাতেও তৃণমূল কাউন্সিলররা গণইস্তফা দিয়েছেন। একই চিত্র দেখা গেছে ভদ্রেশ্বর পুরসভাতেও।
পদত্যাগের অন্তরালের কারণ
এই গণইস্তফার পেছনে একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণ উঠে আসছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে চন্দননগরের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেছে এবং এলাকাটি এখন বিজেপির দখলে। চন্দননগরের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনের হারের পর থেকেই দলের কাউন্সিলরদের মধ্যে এক ধরণের অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ ডামাডোল তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে প্রশাসনিক স্তরে বিদায়ী মেয়র রাম চক্রবর্তী জানিয়েছেন, পুরনগর উন্নয়ন দপ্তর থেকে পুরসভার খরচের অডিটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সঠিক পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে না জেনেই তাঁরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিরোধী শিবিরের দাবি, তৃণমূলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয় থেকেই কাউন্সিলরদের এই দল ছাড়ার হিড়িক।
নাগরিক পরিষেবা স্তব্ধ হওয়ার আশঙ্কা
মেয়রসহ প্রায় সমস্ত কাউন্সিলরের এই আকস্মিক পদত্যাগের ফলে চন্দননগর পুরনিগমের স্বাভাবিক কাজকর্ম ও প্রশাসনিক চাকা সম্পূর্ণ থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সাধারণ মানুষ কীভাবে তাঁদের দৈনন্দিন পুরপরিষেবা পাবেন, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। চন্দননগরের রাজনৈতিক ক্ষমতার এই আকস্মিক শূন্যতা এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থা আগামী দিনে নাগরিক পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এক গভীর সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
