নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন, কার হাতে কোন দফতর? দেখে নিন সম্ভাব্য তালিকা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ জল্পনার অবসান হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারে ৩৫ জন মন্ত্রীর দায়িত্বের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ সব দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ভারসাম্যের একটি নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর হাতে বিশেষ দায়িত্ব ও শিক্ষায় বড় পরিবর্তন
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের হাতেই রেখেছেন স্বরাষ্ট্র, আইন ও বিচার, ভূমি ও ভূমিরাজস্ব এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের মতো স্পর্শকাতর বিভাগের দায়িত্ব। রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চিকিৎসক-রাজনীতিক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে। শিল্প ও বাণিজ্যের দায়িত্বে থাকছেন অভিজ্ঞ বিধায়ক তাপস রায়। এছাড়া অর্থমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে চলেছেন স্বপন দাশগুপ্ত।
রাজ্যের দীর্ঘদিনের শিক্ষাক্ষেত্রের জটিলতা ও নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক নিরসনে শিক্ষা দপ্তরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় পাচ্ছেন উচ্চশিক্ষা দপ্তর এবং স্কুলশিক্ষা দপ্তরের দায়িত্বে থাকছেন উত্তরবঙ্গের নেতা দীপক বর্মণ। সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আদর্শগত সম্পর্ক রয়েছে এমন নেতাদের হাতেই শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের মৌলিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়।
মন্ত্রিসভায় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রদবদল
অন্যান্য প্রধান দপ্তরগুলোর মধ্যে দিলীপ ঘোষকে পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অগ্নিমিত্রা পাল নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব সামলাবেন। এছাড়া খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের দায়িত্বে থাকছেন অশোক কীর্তনিয়া, পর্যটন দপ্তরের দায়িত্ব পাচ্ছেন শঙ্কর ঘোষ এবং পরিবহণ ও শ্রম দপ্তরের ভার পেতে চলেছেন অর্জুন সিংহ। ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরের নতুন দায়িত্বে থাকছেন ইন্দ্রনীল খাঁ।
রাজ্য নেতৃত্ব, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক এবং আরএসএস নেতৃত্বের সম্মতিতে এই চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে পৃথক নজরদারি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই নতুন বিন্যাসের মূল লক্ষ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে সামান্য রদবদল হতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে মন্ত্রিসভার এই কাঠামো রাজ্যের আগামী দিনের প্রশাসনিক কর্মপরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
