নন্দীগ্রামের পর রেজিনগর! উপনির্বাচনে ‘শূন্য’ মমতা তৃণমূল, মনোনয়ন তুললেন রবিউল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 19, 202612:28 pm
নন্দীগ্রামের অঘটনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এবার রেজিনগরেও বড় রাজনৈতিক ধাক্কা খাবে মমতা তৃণমূল। আসন্ন উপনির্বাচনের লড়াই থেকে আচমকাই নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নিলেন দলটির প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। প্রতীক পরিবর্তন এবং স্বল্প সময়ে প্রচারের জটিলতাকে কারণ দেখিয়েই ভোটের ময়দান থেকে পিছিয়ে এলেন তিনি। এর ফলে দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনেই মমতা তৃণমূলের আর কোনো প্রার্থী অবশিষ্ট রইল না।
মূল হাইলাইটস:
- নন্দীগ্রামের পর এবার রেজিনগরেও লড়াই থেকে সরলেন মমতা তৃণমূলের প্রার্থী।
- কম সময়ে নতুন প্রতীক (‘ফুটবল খেলোয়াড়’) সাধারণ মানুষকে চেনানো আসাম্ভব—দাবি রবিউলের।
- নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—রাজ্যের দুই উপনির্বাচনেই এখন প্রার্থীহীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।
কেন পিছু হঠলেন রবিউল আলম?
মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর রবিউল আলম চৌধুরী স্পষ্ট জানান, কর্মী-সমর্থকদের ওপর প্রতিনিয়ত চাপ তৈরি হচ্ছিল। তাছাড়া এত দ্রুত নতুন সিম্বল নিয়ে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানো বাস্তবে কঠিন। তিনি বলেন, “আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরো বিষয়টি জানিয়েছিলাম। তিনি নতুন প্রতীক নিয়েই লড়াই করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এত কম সময়ে ভোটারদের নতুন প্রতীক চেনানো সম্ভব নয় বলেই কর্মীরা সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন। তাই মনোনয়ন প্রত্যাহার করলাম।”
নন্দীগ্রামের ছায়াই রেজিনগরে
উল্লেখ্য, গত শুক্রবারই নন্দীগ্রামের মমতা তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর সেখানে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছিলেন মমতা। এখন রেজিনগরে রবিউল সরে দাঁড়ানোর পর সেখানেও কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস বা অন্য কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করবেন? তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিরোধী শিবিরের তীব্র কটাক্ষ
এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। কটাক্ষ ছুরে দিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নন্দীগ্রামে অঘটন ঘটানোর কথা বলে এখন দুটি কেন্দ্রেই বড় অঘটন ঘটে গেল। নেত্রী মাঠে গোল দিতে নেমেছিলেন, কিন্তু এখন সব গোলই সেমসাইড হয়ে যাচ্ছে।”
শুক্রবারই নতুন প্রতীক পাওয়ার পর সোশাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু করেছিলেন রবিউল। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত বদল মমতা তৃণমূলের রাজনৈতিক লড়াইকে বেশ ব্যাকফুটে ঠেলে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
