নন্দীগ্রাম জয়ের হুঙ্কার অভিষেকের, শুভেন্দুর পাল্টা চ্যালেঞ্জে উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি – এবেলা

নন্দীগ্রাম জয়ের হুঙ্কার অভিষেকের, শুভেন্দুর পাল্টা চ্যালেঞ্জে উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন মধ্যগগনে। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটি ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। ডায়মন্ড হারবারের রোড শো থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন যে, এবার নন্দীগ্রামের দখল নেবে তৃণমূল কংগ্রেস। অতীতে তাঁর করা একাধিক রাজনৈতিক ভবিষ্যৎবাণী মিলে যাওয়ার নজির টেনে তিনি স্পষ্ট জানান, নন্দীগ্রামের মাটিতে এবার জোড়াফুল ফুটতে চলেছে।

পাল্টা চ্যালেঞ্জ ও সংখ্যাতত্ত্বের লড়াই

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সরাসরি চ্যালেঞ্জের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পাল্টা দাবি করেছেন যে, ৪ মে ভোটের ফলাফলে দেখা যাবে বিজেপি রাজ্যে ন্যূনতম ১২৫টি আসন দখল করছে। নন্দীগ্রামে ভোটের হার ৮৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে এবং শেষ হাসি মানুষ পদ্ম চিহ্নেই দেবে বলে তাঁর বিশ্বাস। মূলত এই আসনটি দুই শিবিরের কাছেই এখন মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে একদিকে রয়েছে হারানো জমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য এবং অন্যদিকে গড় রক্ষার চ্যালেঞ্জ।

উন্নয়ন বনাম পরিবর্তনের রাজনীতি

তৃণমূলের পক্ষ থেকে নন্দীগ্রামবাসীকে উন্নয়নের ‘সিঙ্গল ইঞ্জিন’ অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী পাঁচ বছর ব্যক্তিগতভাবে নন্দীগ্রামের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই লড়াইয়ে সুর চড়িয়ে দাবি করেছেন যে, পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রাম পরিবর্তনের যে পথ দেখিয়েছিল, এবার গোটা বাংলা সেই পথেই হাঁটবে। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ফলে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে এবং যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এক ঝলকে

  • ডায়মন্ড হারবারের রোড শো থেকে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের নিশ্চিত জয়ের দাবি করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • অভিষেকের দাবি উড়িয়ে দিয়ে নন্দীগ্রামে জয়ের পাশাপাশি রাজ্যে ১২৫টি আসন পাওয়ার পাল্টা দাবি শুভেন্দু অধিকারীর।
  • নন্দীগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব সশরীরে নেওয়ার অঙ্গীকার করে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা শাসক শিবিরের।
  • প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভাষণেও উঠে এসেছে নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ, যেখানে তিনি রাজ্যে তৃণমূল সরকারের বিদায় আসন্ন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *