নবজাতকের পিঠে ফোলা অংশ দেখে আতঙ্কিত মা! ‘গর্ভাবস্থায় এই ভুলের কারণেই…’ আসল সত্যি জানালেন ডাক্তার – এবেলা

নবজাতকের পিঠে ফোলা অংশ দেখে আতঙ্কিত মা! ‘গর্ভাবস্থায় এই ভুলের কারণেই…’ আসল সত্যি জানালেন ডাক্তার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নবজাতকের পিঠে ফোলা অংশ দেখে আতঙ্কিত মা, ‘গর্ভাবস্থায় এই ভুলের কারণেই এমনটা হয়েছে’ জানালেন ডাক্তার

শিশুদের মধ্যে জন্মগতভাবে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। সম্প্রতি, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ (পিয়াডিয়াট্রিশিয়ান) ডক্টর পবন মন্দাব্যা ‘মেনিনগোমাইলোসিল’ (Meningomyelocele) নামক একটি জন্মগত ত্রুটি নিয়ে আসা মাত্র দুদিনের এক নবজাতককে পরীক্ষা করেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, চিকিৎসকেরা গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র খাওয়া এবং সময়মতো আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান করানোর গুরুত্ব সম্পর্কে হবু মা-বাবাদের বিশেষভাবে সতর্ক করছেন। গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করার কারণে ওই মা গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চেক-আপ বা স্ক্যান করাতে পারেননি, যার ফলে এই দুঃখজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

‘মেনিনগোমাইলোসিল’ কী এবং কেন হয়?

চিকিৎসকদের পরিভাষায়, শিশুর পিঠে দেখা যাওয়া এই বিশেষ ফোলা অংশটিকে ‘মেনিনগোমাইলোসিল’ বা ‘নিউরাল টিউব ডিফেক্ট’ (Neural Tube Defect) বলা হয়। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলিক অ্যাসিডের (Folic Acid) ঘাটতি থাকলে শিশুর মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের বিকাশ সঠিকভাবে হতে পারে না, যার ফলে এই জন্মগত ত্রুটির সৃষ্টি হয়। সাধারণত, কোনো নারী গর্ভধারণের পরিকল্পনা করার ২-৩ মাস আগে থেকেই ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খাওয়া শুরু করা উচিত এবং গর্ভবতী হওয়ার পর প্রথম ৩ মাস এটি নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক। এর ঘাটতি শিশুর মেরুদণ্ডের গঠনে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

নিয়মিত স্ক্যানিংয়ের গুরুত্ব

ডাক্তাররা জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থার প্রায় পঞ্চম মাসে যে অ্যানোমালি স্ক্যান (Anomaly scan) বা আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান করা হয়, তার মাধ্যমে এই ধরনের শারীরিক ত্রুটিগুলো আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব। এ ছাড়া গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে NT এবং NB স্ক্যান করাও অত্যন্ত জরুরি। কোনো গর্ভবতী মহিলার শরীর আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মনে হলেও, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো সমস্ত পরীক্ষা করানো উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো সমস্যা ধরা পড়লে পরবর্তী চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া চিকিৎসকদের জন্য অনেক সহজ হয়।

চিকিৎসকদের বার্তা ও পরামর্শ

ডাক্তার পবন মন্দাব্যার মতে, অসচেতনতা বা অবহেলার কারণে অনেক সময় মা-বাবারা এই প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো এড়িয়ে যান, যার মাশুল দিতে হয় নিষ্পাপ শিশুকে। তাই মা ও সন্তানের সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই সঠিক পুষ্টি, ফলিক অ্যাসিডের মতো প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং নিয়মিত ডাক্তারি পরীক্ষা নিশ্চিত করা উচিত।

এক ঝলকে

  • দুদিনের এক নবজাতকের পিঠে ‘মেনিনগোমাইলোসিল’ নামক জন্মগত নিউরাল টিউব ডিফেক্ট বা মেরুদণ্ডের ত্রুটি ধরা পড়েছে।
  • গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে ফলিক অ্যাসিডের তীব্র ঘাটতি এবং নিয়মিত ওষুধ না খাওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
  • গ্রামীণ এলাকায় থাকার দরুণ ওই মহিলা গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় আল্ট্রাসাউন্ড বা অ্যানোমালি স্ক্যান করাতে পারেননি।
  • চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থার পঞ্চম মাসের স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে এই ধরনের ত্রুটি আগেই নির্ণয় করা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *