নববর্ষে নতুন শপথ, চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে কি এবার ইস্টবেঙ্গল!
বাংলা নববর্ষে ভিড়হীন ইস্টবেঙ্গল ক্লাব: ট্রফির অপেক্ষায় লাল-হলুদ শিবির
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি ময়দানসহ সারা বাঙালির কাছেই আবেগের। ঐতিহ্য মেনে এদিন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে অনুষ্ঠিত হলো বারপুজো। তবে উৎসবের আবহেও যেন এক গভীর বিষণ্ণতা গ্রাস করেছিল শতাব্দীপ্রাচীন এই ক্লাবকে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এদিন ক্লাবে সদস্য ও সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। মাঠের সাফল্যের খরা আর আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব—এই দুই পরিস্থিতির দোলাচল যেন স্পষ্ট হয়ে উঠল নববর্ষের প্রথম দিনে।
মাঠে ব্যস্ততা, গ্যালারিতে শূন্যতা
বৃহস্পতিবার ঘরের মাঠে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে ইস্টবেঙ্গলের। সেই প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকায় এদিন ক্লাবে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি অস্কার ব্রুজো এবং তাঁর মূল দলের ফুটবলাররা। তবে ক্লাবের ডেভেলপমেন্ট টিম ও মেয়েদের ফুটবল দলের উপস্থিতিতে বারপুজোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। প্রাক্তন ফুটবলারদের মধ্যে আলোক মুখার্জি, মেহতাব হোসেন, রহিম নবি এবং দীপঙ্কর রায় উপস্থিত থাকলেও, আমজনতা ও সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো কম। অনেকের মতে, দীর্ঘদিনের ট্রফি খরা সমর্থকদের এই বিমুখতার মূল কারণ।
প্রযুক্তি নাকি ফর্মহীনতা: কী ভাবছে ক্লাব?
ট্রফির অভাবই কি সমর্থকদের এমন অনাগ্রহের কারণ? ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার অবশ্য বিষয়টি দেখছেন ভিন্নভাবে। তিনি মনে করেন, স্মার্টফোন আর প্রযুক্তির যুগে মানুষ ঘরে বসেই সব আপডেট পেয়ে যান, তাই মাঠে এসে ভিড় করার মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে। তবে তিনি পরিকাঠামো উন্নয়নেই জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কেবল চ্যাম্পিয়ন হওয়া নয়, বরং স্কুল অফ এক্সেলেন্স এবং ট্যালেন্ট হান্টের মাধ্যমে ফুটবলের সার্বিক উন্নতি করা।’ বিনিয়োগকারীদের ধরে রাখতে হলে প্রতিটি আইএসএল দলকে যে তৃণমূল স্তরে অ্যাকাডেমি গড়তে হবে, সেই বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
প্রাক্তনদের চোখে চ্যাম্পিয়নশিপের সমীকরণ
লিগ টেবিলে ইস্টবেঙ্গলের বর্তমান অবস্থান নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন প্রাক্তনরা। রহিম নবি মনে করেন, ইস্টবেঙ্গল সবসময়ই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মানসিকতা নিয়ে খেলে, তাই আশা ছাড়ার জায়গা নেই। মেহতাব হোসেনের মতে, লিগের সামনের সারির দলগুলো পয়েন্ট নষ্ট করছে, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে ইস্টবেঙ্গলের পক্ষেও শীর্ষে ওঠা সম্ভব। তবে দীপঙ্কর রায় সরাসরিই দলের জয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, বর্তমান দলটি যথেষ্ট শক্তিশালী এবং ইস্টবেঙ্গলের জার্সির মর্যাদা রক্ষায় খেলোয়াড়দের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।
আগামী দিনের পরিকল্পনা ও নতুন নেতৃত্ব
নতুন মরশুমের জন্য ইস্টবেঙ্গল তাদের অধিনায়কের নাম ঘোষণা করল পয়লা বৈশাখেই। মহম্মদ রাকিপকে অধিনায়ক এবং লালচুংনুঙ্গাকে সহ-অধিনায়ক হিসেবে বেছে নিয়েছে ম্যানেজমেন্ট। আগামী কলকাতা লিগের ম্যাচগুলো ক্লাবের নিজস্ব মাঠে আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি ম্যাচ ফ্লাডলাইটের নিচেও খেলা হতে পারে। এছাড়া, বারপুজোর শেষে ক্লাবে হঠাৎই হাজির হন হোসে রামিরেজ ব্যারেটো। পাশাপাশি সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবের সাথে শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের দীর্ঘ আলোচনাকে ঘিরেও জল্পনা তৈরি হয়েছে ফুটবল মহলে।
এক ঝলকে
- বারপুজো: উৎসবের দিনেও সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেকটাই কম।
- দলগত প্রস্তুতি: গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের কারণে অস্কার ব্রুজো এবং মূল দল ক্লাবের অনুষ্ঠানে থাকতে পারেনি।
- নতুন অধিনায়ক: বাংলা নববর্ষের দিনই মহম্মদ রাকিপকে অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- পরিকাঠামো লক্ষ্য: চ্যাম্পিয়নশিপের পাশাপাশি ফুটবলার গড়ার কারখানায় (অ্যাকাডেমি) বিশেষ নজর দিচ্ছে ক্লাব।
- ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: চলতি আইএসএলের পর কলকাতা লিগের ম্যাচ নিজস্ব মাঠে ফ্লাডলাইটের নিচে আয়োজনের উদ্যোগ।
