নবান্নে গেরুয়া আবির আর জয় শ্রীরাম স্লোগান, পালাবদলের উল্লাসে মাতলেন সরকারি কর্মীরা!

নবান্নে গেরুয়া আবির আর জয় শ্রীরাম স্লোগান, পালাবদলের উল্লাসে মাতলেন সরকারি কর্মীরা!

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু নবান্নে। সোমবার ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেল এক নজিরবিহীন দৃশ্য। যে নবান্ন এতকাল শাসকদলের কঠোর নিয়ন্ত্রণে ছিল, মঙ্গলবার সেখানে রীতিমতো উৎসবের মেজাজে গেরুয়া আবির খেললেন সরকারি কর্মীদের একাংশ। করিডোরজুড়ে প্রতিধ্বনিত হলো ‘জয় শ্রীরাম’ এবং ‘ভারতমাতা কি জয়’ স্লোগান।

মুক্তির স্বাদ ও বঞ্চনার অবসান

নির্বাচনে বিজেপি ২০০-র বেশি আসনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসতেই নবান্নের অন্দরের পরিবেশ আমূল বদলে গিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সরকারি কর্মীদের একটি বড় অংশকে আবির খেলায় মেতে উঠতে দেখা যায়। পুরুষ কর্মীদের পাশাপাশি মহিলা কর্মীরাও হাতে বিজেপির পতাকা নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েন। উপস্থিত কর্মীদের দাবি, বিগত কয়েক বছর ধরে তাঁরা এক প্রকার ভয়ের আবহে কাজ করছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মী জানান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকায় তাঁরা এতদিন কোণঠাসা বোধ করতেন, যা থেকে আজ মুক্তি মিলেছে।

প্রত্যাশার পারদ ও প্রশাসনিক প্রভাব

এই স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাসের নেপথ্যে কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভও কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে সরকারি কর্মীদের মধ্যে যে অসন্তোষ ছিল, তা এদিন তাঁদের কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নতুন সরকারের কাছে বকেয়া পাওনা মেটানো এবং কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কর্মীরা।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের সদর দপ্তরে এই ধরনের প্রকাশ্য রাজনৈতিক উদযাপন নজিরবিহীন। এর ফলে আমলাতন্ত্র এবং নিচুতলার কর্মীদের কাজের ধরনেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিগুলি হাতছাড়া হওয়া এবং ২০৭টি আসন নিয়ে বিজেপির জয়লাভের পর এই পালাবদল আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *