নাকাশিপাড়ায় ১১০০ বিঘা জমি দখল ও গাছ পাচার! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা – এবেলা

নাকাশিপাড়ায় ১১০০ বিঘা জমি দখল ও গাছ পাচার! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নদিয়া: রাজ্যের ১১০০ বিঘা সরকারি খাস জমি দখল, মাটির অবৈধ খনন এবং মূল্যবান গাছ পাচারের অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে নদিয়ার রাজনীতিতে। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় নাম জড়াল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে কী জানা গেল?

বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) তরুণ কুমার মণ্ডল মামলাটি গ্রহণ করেছেন। আদালত নাকাশিপাড়া থানার পুলিশকে আগামী ২৭ জুনের মধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৭ জুলাই।

অভিযোগের মূলে কী রয়েছে?

মামলাকারীদের আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস জানিয়েছেন, নাকাশিপাড়ার ২৪ নম্বর মৌজার অন্তর্গত ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে বিশাল ওই জমিটি খৈতান কো ম্পা নির নামে লিজে ছিল। ২০২০ সালেই সেই লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় জমিটি সরকারি খাস জমি হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা। অভিযোগ, এরপর থেকেই শুরু হয় অবাধ লুঠতরাজ:

  • মাটি চুরি: লিজ শেষ হওয়ার পর থেকে প্রায় সাড়ে ৪০০ বিঘা জমির মাটি বেআইনিভাবে খনন করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
  • গাছ পাচার: জমি থেকে কয়েক হাজার মূল্যবান সেগুন ও মেহগনি গাছ কেটে পাচার করা হয়েছে।
  • নির্যাতন: স্থানীয় আদিবাসী পরিবারগুলিকে জমি থেকে উচ্ছেদ করতে এবং মুখ বন্ধ রাখতে তাদের ওপর ক্রমাগত অত্যাচার ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

অভিষেকের নাম জড়াল কেন?

মামলাকারী পক্ষের দাবি, এই বিশাল দুর্নীতির নেপথ্যে প্রভাবশালী মদত রয়েছে। আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাসের অভিযোগ, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নির্দেশে এই মাটি ও গাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্তরা সবসময় বুক ফুলিয়ে বলত, তাদের মাথায় অভিষেকের হাত রয়েছে।”

এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও মূল অভিযুক্তদের তালিকায় নাম রয়েছে শাহজাহান শেখ, বিদ্যুৎ সরকার, সমীর প্রামাণিকসহ মোট ১২ জনের। লোকসভা ভোটের পরবর্তী সময়ে শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় নদিয়াজুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *