নিজেকে ‘প্রাক্তন’ মানতে নারাজ মমতা! ফেসবুক বায়ো নিয়ে অভিনেতা অরিত্রর তীব্র কটাক্ষ

নিজেকে ‘প্রাক্তন’ মানতে নারাজ মমতা! ফেসবুক বায়ো নিয়ে অভিনেতা অরিত্রর তীব্র কটাক্ষ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো পঁচিশে বৈশাখের সাকলে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে ক্ষমতার এই পালাবদলের দিনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সৌজন্যের বদলে তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলের ‘বায়ো’ বা পরিচয়লিপি নিয়ে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

‘প্রাক্তন’ শব্দে অনীহা ও নতুন পরিচয়

বিপুল জনমতের প্রতিকূলে গিয়ে ক্ষমতা হারাল তৃণমূল কংগ্রেস। গত ৭ মে রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে ‘প্রাক্তন’ হিসেবে মেনে নিতে নারাজ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। শনিবার শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সময় পর্যন্ত তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পদটি জ্বলজ্বল করছিল। প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে পরবর্তীতে সেই পরিচয় পরিবর্তন করা হলেও সেখানে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে ‘প্রাক্তন’ শব্দটি। নতুন পরিচয়ে নিজেকে ১৫, ১৬ এবং ১৭তম বিধানসভার মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

অরিত্রর তীব্র আক্রমণ ও মহাজাগতিক প্রাণীর তকমা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থান ও ফেসবুক বায়ো নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিদ্রুপ ছড়িয়ে দিয়েছেন অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিক। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর প্রোফাইলের স্ক্রিনশট শেয়ার করে অরিত্র দাবি করেন, এটি স্রেফ ইগো বা অহমিকার লড়াই। তিনি কটাক্ষ করে লেখেন, তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজেকে দাবি করলেও ‘প্রাক্তন’ লিখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রবল আপত্তি রয়েছে। এই আচরণকে বিদ্রুপ করে তিনি তৃণমূল নেত্রী ও তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারদের ‘অদ্ভুত মহাজাগতিক প্রাণী’ বলে অভিহিত করেছেন।

প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রভাব

রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরেও বিদায়ী প্রশাসনের শীর্ষস্তরের এই মানসিকতা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই বিতর্কের ফলে নতুন সরকারের সূচনালগ্নে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তিক্ততা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন নতুন মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছেন, অন্যদিকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর এই পরিচয় সংকট বাংলার রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *