‘নিজেদের ইচ্ছাতেই রুশ সেনায় নাম লিখিয়েছেন ভারতীয়রা’, সুপ্রিম কোর্টে দায় ঝেড়ে ফেলল মোদী সরকার! – এবেলা

‘নিজেদের ইচ্ছাতেই রুশ সেনায় নাম লিখিয়েছেন ভারতীয়রা’, সুপ্রিম কোর্টে দায় ঝেড়ে ফেলল মোদী সরকার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে লড়াই করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ১০ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের দাবি, রাশিয়ায় যাওয়া অধিকাংশ ভারতীয়ই স্বেচ্ছায় এবং নিজস্ব চুক্তিতে এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে অসাধু এজেন্টদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দিচ্ছে না কেন্দ্র। ২৬ জন ভারতীয় নাগরিকের পরিবারের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে আদালত এই তথ্যগুলো জানতে পেরেছে।

বাস্তবতা বনাম অভিযোগ

মামলাকারীদের পরিবারের দাবি, তাঁদের স্বজনদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে তাঁদের জোরপূর্বক যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা কী অবস্থায় আছেন, সে সম্পর্কে পরিবারগুলো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাচ্ছে না। তবে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল আদালতে জানান, মোট ২১৫ জন ভারতীয় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, যার মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সরকার মৃতদেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও প্রভাব

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে মরদেহ ফিরিয়ে আনা একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। এই ঘটনার ফলে বিদেশের মাটিতে ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে অসাধু চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আদালত এই বিষয়ে এ পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপের ওপর বিদেশ মন্ত্রককে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে লড়াই করতে গিয়ে ১০ জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
  • কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, রাশিয়ায় যাওয়া ২১৫ জনের অধিকাংশ স্বেচ্ছায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে যুদ্ধে যোগ দেন।
  • পরিবারের অভিযোগ, উন্নত চাকরির টোপ দিয়ে এজেন্টরা তাঁদের জোর করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়েছে।
  • সুপ্রিম কোর্ট বিদেশ মন্ত্রককে চলমান উদ্ধার প্রক্রিয়া নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *