নিজের ক্ষতি করছে অন্যের নেগেটিভ এনার্জি, মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে চিনে নিন ‘এনার্জি ভ্যাম্পায়ার’দের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান বলছে, শক্তির মতো মানুষের আবেগ বা অনুভূতিও একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে স্থানান্তরিত হতে পারে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ইমোশনাল কন্টাজিয়ন’। কোনো ব্যক্তির মস্তিষ্কে যখন স্ট্রেস হরমোন বা কর্টিসলের মাত্রা বেশি থাকে, তখন তার নেতিবাচক কথাবার্তা ও শারীরিক অঙ্গভঙ্গি চারপাশের মানুষের মস্তিষ্কেও কর্টিসল হরমোন নিঃসরণ শুরু করে। ফলে কর্মক্ষেত্র, বন্ধুমহল বা পরিবারে থাকা কিছু নেতিবাচক মানুষের প্রভাবে অন্য সুস্থ ব্যক্তিরাও মানসিকভাবে ক্লান্ত এবং বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এই ধরনের নেতিবাচক মানসিকতার মানুষদের মনোবিদরা ‘এনার্জি ভ্যাম্পায়ার’ বলে অবিহিত করেছেন।
নেতিবাচক মানুষ চেনার ৫টি প্রধান লক্ষণ
দৈনন্দিন জীবনে চারপাশে থাকা কোন মানুষগুলো নেতিবাচক শক্তি ছড়াচ্ছে, তা কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
প্রথমত, শারীরিক ক্লান্তি বা ‘ফিজিক্যাল ড্রেইন’। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাথে কথা বলার পর হঠাতই অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ব্যথা বা ঘাড় ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বুঝতে হবে শরীর সেখান থেকে দূরে যাওয়ার সংকেত দিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, মানসিক কুয়াশা বা ‘মেন্টাল ফগ’। নেতিবাচক মানুষের সংস্পর্শে আসার পর নিজের লক্ষ্য বা পরিকল্পনাগুলোকে অর্থহীন মনে হতে শুরু করে এবং হঠাত করেই আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেয়। তৃতীয়ত, সব কিছু নিয়ে অতিরিক্ত অভিযোগ ও নাটকীয়তা তৈরি করা। এরা সমস্যার কোনো সমাধান খোঁজার চেষ্টা করে না, বরং অন্যকে মানসিক ডাস্টবিন বানিয়ে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিতে চায়। চতুর্থত, ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল বা ‘গিল্ট ট্রিপ’। নিজেদের স্বার্থে এরা অন্যদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে এবং নিজেদের পাশে বসিয়ে রাখতে বাধ্য করে। পঞ্চমত, অন্যের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হওয়া। পজিটিভ মানুষ যেখানে অন্যের সাফল্যকে উদযাপন করে, সেখানে নেতিবাচক মানুষরা সুস্থ প্রতিযোগিতার বদলে হিংসাত্মক মনোভাব দেখায়।
নেতিবাচকতা থেকে আত্মরক্ষার উপায়
এই ধরনের মানসিক ক্ষতি থেকে বাঁচতে এবং নিজের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে বিশেষজ্ঞদের কিছু সুনির্দিষ্ট পরামর্শ রয়েছে।
- বাউন্ডারি তৈরি করা: অন্যের সব কথা শোনার বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে ভদ্রভাবে আলোচনার বিষয়বস্তু পরিবর্তন করা অথবা সেখান থেকে সরে আসা উচিত। ২৪ ঘণ্টা সবার জন্য সহজলভ্য থাকা বন্ধ করাই নিজেকে সুরক্ষিত রাখার প্রথম পদক্ষেপ।
- এনার্জি ডিটক্স: নেতিবাচক পরিবেশ থেকে ফিরে হাত-মুখ ধুয়ে নেওয়া বা স্নান করা মানসিক প্রশান্তি দেয়। এছাড়া চার সেকেন্ড শ্বাস নেওয়া, সাত সেকেন্ড ধরে রাখা এবং আট সেকেন্ড ধরে মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়ার মতো ব্রিদিং এক্সারসাইজ বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম মস্তিষ্কের কর্টিসল হরমোন কমাতে সাহায্য করে।
- মানসিক রিচার্জ: পছন্দের গান শোনা, বই পড়া, ধ্যান বা গাছের পরিচর্যা করার মাধ্যমে নিজের পজিটিভ এনার্জি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
বিকল্প কৌশল ‘গ্রে রক মেথড’
কর্মক্ষেত্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা পরিবারের কোনো সদস্যকে জীবন থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানীরা ‘গ্রে রক মেথড’ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এই পদ্ধতিতে নিজেকে একটি আবেগহীন পাথরের মতো আচরণ করতে হয়। নেতিবাচক ব্যক্তিটি কোনো নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করলেও সেখানে কোনো জোরালো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কেবল ‘হ্যাঁ’ বা ‘আচ্ছা’ বলে এড়িয়ে যেতে হয়। কোনো প্রতিক্রিয়া না পেলে এনার্জি ভ্যাম্পায়ারেরা সাধারণত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা ব্যক্তিগত সাফল্যের খবর এদের থেকে গোপন রাখাই শ্রেয়। নিজের মানসিক শক্তি এবং সুস্থতা বজায় রাখতে সচেতনভাবে মানুষ চিনে মেশা অত্যন্ত জরুরি।
