নির্বাচনী প্রচারে ব্রাত্য দাপুটে মন্ত্রীরা, তবে কি নতুন তৃণমূলের সমীকরণেই বড় রদবদল? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূলের অন্দরে ‘নবীন-প্রবীণ’ দ্বন্দ্বের গুঞ্জন ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবারের নির্বাচনী প্রচারে। লক্ষ্যণীয়ভাবে, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা ও মন্ত্রীর নির্বাচনী কেন্দ্রে প্রচারে যাননি। এই তালিকায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায় এবং ব্রাত্য বসুর মতো শীর্ষ নেতাদের নাম থাকায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। অভিষেক কেন এই প্রভাবশালী নেতাদের ডেরায় প্রচারে এড়িয়ে গেলেন, তা নিয়ে দলের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়ছে।
কৌশলী দূরত্ব নাকি সাংগঠনিক রদবদল
বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই ‘নতুন তৃণমূল’ গড়ার কথা বলে আসছেন। দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ওপর জোর দিতে গিয়েই সম্ভবত তিনি বেশ কিছু বিতর্কিত বা প্রবীণ নেতার থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন। বিরোধী শিবির বিশেষ করে বিজেপি নেতা প্রণয় রায়ের দাবি, ভোটের ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই অভিষেক এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তৃণমূলের অভ্যন্তরে যে বড় ধরনের রদবদল বা সম্ভাব্য ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে, এই প্রচার-অনুপস্থিতি তারই ইঙ্গিতবাহী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ সমীকরণের প্রভাব
অভিষেকের এই নীরবতা বা অনুপস্থিতি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। একদিকে যেমন শীর্ষ নেতৃত্বের এই দূরত্ব দলের প্রবীণ নেতাদের রাজনৈতিক আধিপত্যের ওপর প্রশ্নচিহ্ন বসিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে এটি তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের কাঠামো স্পষ্ট করছে। যদি নির্বাচনের পর দলে বড় কোনো সাংগঠনিক পরিবর্তন আসে, তবে এই প্রচারহীন কেন্দ্রগুলিই হতে পারে পরিবর্তনের মূল কেন্দ্রবিন্দু। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে এক দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে চলেছে।
এক ঝলকে
- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, ফিরহাদ হাকিম ও ব্রাত্য বসুর মতো হেভিওয়েট মন্ত্রীদের কেন্দ্রে প্রচারে যাননি।
- রাজনৈতিক মহলে এই অনুপস্থিতিকে ‘নতুন তৃণমূল’ গড়ার কৌশলী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- বিরোধী পক্ষ এই ঘটনাকে নির্বাচনের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাঙনের পূর্বাভাস হিসেবে দাবি করেছে।
- হেভিওয়েট নেতাদের এড়িয়ে যাওয়ার ফলে দলের নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক সমীকরণ নিয়ে বিতর্ক জোরালো হয়েছে।
