নেপাল বন্যায় বেনামী মৃতদেহ সৎকার: সংক্রমণ রুখতে জিও-ট্যাগিং ও ডিএনএ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত – এবেলা
August 31, 2026

এবেলা ডেস্কঃ
সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যা ও কাদা-ধসে এ পর্যন্ত ৭৩৪টিরও বেশি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে সর্বাধিক ২৩৩টি মরদেহ মিলেছে ভারতের সীমান্তবর্তী চিতওয়ান জেলায়। হাসপাতালগুলোতে জায়গা ও হিমাগারের চরম সংকট তৈরি হওয়ায় মৃতদেহগুলোতে পচন ধরতে শুরু করেছে। ফলস্বরূপ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ছোঁয়াচে রোগের তীব্র আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত ও দাবিহীন মরদেহগুলো সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে স্বজনদের কথা মাথায় রেখে গ্রহণ করা হয়েছে এক বৈজ্ঞানিক ও সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা:
- ডিএনএ প্রোফাইলিং ও জিও-ট্যাগিং: প্রতিটি মরদেহ সমাহিত করার আগে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মরদেহে বিশেষ আইডেন্টিফিকেশন (ID) নম্বর এবং লোকেশন ট্যাগ যুক্ত করা হচ্ছে।
- সহজে উত্তোলনের ব্যবস্থা: পরবর্তীতে মরদেহ উদ্ধার সহজ করতে মাত্র ১.৫ মিটার গভীর গর্ত খুঁড়ে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে কবর দেওয়া হচ্ছে। কংক্রিটের প্ল্যাটফর্মে সাইনবোর্ড দিয়ে সেই আইডি নম্বর উল্লেখ থাকবে, এবং পুরো প্রক্রিয়াটির জিও-ট্যাগিং ও ভিডিও রেকর্ড রাখা হচ্ছে।
- স্বজনদের হস্তান্তর প্রক্রিয়া: নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার পরবর্তীতে হাসপাতালে ডিএনএ নমুনা জমা দিয়ে আইডি নম্বর নিশ্চিত করতে পারবেন। এরপর পুলিশ রেকর্ড ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট মরদেহটি কবর থেকে তুলে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
পুলিশ ইতোমধ্যেই একটি ওয়েবসাইটে পরিচয়হীন মৃতদেহগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে। জানা গেছে, এখনও অনেক বিদেশী নাগরিকসহ প্রায় ৩,০০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
