পকেটে স্পাই ক্যামেরা, ইভিএমে আতর! ‘সিংঘমে’র নজরদারিতেও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভোট লুটের অভিনব কারসাজি?

পকেটে স্পাই ক্যামেরা, ইভিএমে আতর! ‘সিংঘমে’র নজরদারিতেও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভোট লুটের অভিনব কারসাজি?

দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। জেলার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলে সরব হয়েছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। প্রথম দফার ভোটে এমন কোনো দাবি না উঠলেও, দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ইভিএম কারচুপির এই মারাত্মক অভিযোগে রীতিমতো অস্বস্তিতে প্রশাসন। উত্তরপ্রদেশের দুঁদে আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকা সত্ত্বেও এই বিশৃঙ্খলা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

কারচুপির অভিনব কৌশল ও অভিযোগের পাহাড়

কমিশন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সবচেয়ে বেশি ৩২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এছাড়া ডায়মন্ডহারবার, মগরাহাট ও বজবজ থেকেও একাধিক বুথে পুনর্নির্বাচনের আর্জি জানানো হয়েছে। কোথাও ইভিএমে টেপ মেরে দেওয়া, কোথাও বোতামে আতর লাগিয়ে রাখা, আবার কোথাও সিসিটিভি ক্যামেরায় রুমাল চাপা দিয়ে রাখার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। এমনকি ভোটারদের পকেটে স্পাই ক্যামেরা ঢুকিয়ে দিয়ে গোপন ব্যালটের পবিত্রতা নষ্ট করার মতো ঘটনাও মগরাহাটে ঘটেছে বলে অভিযোগ।

কমিশনের জরুরি বৈঠক ও প্রভাব

এই সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবারই জরুরি বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আগামী ১ মে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ জারি হতে পারে। গত ২৩ এপ্রিলের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক বুথ থাকা সত্ত্বেও কোনো পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন পড়েনি, কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই ঘটনাপ্রবাহ ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। প্রশাসনিক কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও বিরোধীদের তোলা এই অভিযোগগুলি কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী দফার ভোটের নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এক ঝলকে

  • দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে সরব হয়েছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল।
  • সবচেয়ে বেশি ৩২টি অভিযোগ জমা পড়েছে ফলতা থেকে, এর পরেই রয়েছে ডায়মন্ডহারবার ও মগরাহাট।
  • ইভিএমে টেপ লাগানো এবং ভোটারের পকেটে স্পাই ক্যামেরা রাখার মতো গুরুতর কারচুপির অভিযোগ উঠেছে।
  • পুনর্নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ জরুরি বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *