পদত্যাগ ছাড়াই মমতার বিদায়, বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল

পদত্যাগ ছাড়াই মমতার বিদায়, বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে অভূতপূর্ব এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। টানা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করলেও সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাজ্য বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি। এর ফলে প্রশাসনিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী পদের অবসান ঘটল তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর। বৃহস্পতিবার রাজভবন থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ২(বি) উপধারা অনুযায়ী ৭ মে, ২০২৬ থেকে বিধানসভা বিলুপ্ত করার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

সংবিধান বনাম রাজনৈতিক জেদ

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর সাধারণত মুখ্যমন্ত্রীরা রাজ্যপালের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং নতুন সরকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত ‘কেয়ারটেকার’ বা অন্তর্বর্তীকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার অনুরোধ পান। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি পরাজিত হননি বরং কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের কারসাজিতে তাঁকে হারানো হয়েছে। তিনি পদত্যাগ করতে রাজভবন না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় তৈরি হয় আইনি জটিলতা। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটাতে রাজ্যপাল সরাসরি বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার পথ বেছে নেন। ফলে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত রাজ্যপালই এখন রাজ্যের নির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ভোটের ফল ও ক্ষমতার পালাবদল

এবারের নির্বাচনে বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় আসছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ২০৭টি আসনে জয়লাভ করেছে তারা, যেখানে বিদায়ী শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস থমকে গেছে মাত্র ৮০টি আসনে। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া, দুর্নীতির অভিযোগ এবং হিন্দু ভোট মেরুকরণকে বিজেপির এই জয়ের নেপথ্যে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগামী দিনের গতিপথ

নির্বাচন পরবর্তী এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক সমীকরণে। একদিকে তৃণমূল নেত্রী এই পরাজয়কে মানতে অস্বীকার করে একে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব আগামী ৯ মে রবীন্দ্র জয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করেছে। রাজ্যপালের এই কড়া পদক্ষেপের পর পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এখন সম্পূর্ণভাবে রাজভবনের হাতে, যা নতুন মন্ত্রিসভা গঠন না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *