পরমাণু চুক্তি নাকি জয়, ইরানের সাথে মুখোমুখি বসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! – এবেলা

পরমাণু চুক্তি নাকি জয়, ইরানের সাথে মুখোমুখি বসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর এই প্রথম দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব মুখোমুখি হচ্ছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প নিজেই এই ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ থামার ক্ষেত্রে একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছেন যে, ইরানের সাথে এই লড়াইয়ে চূড়ান্ত বিজয় আমেরিকারই হবে—তা যুদ্ধের ময়দানেই হোক কিংবা খাতায়-কলমে শান্তিচুক্তির মাধ্যমে। মূলত এই ‘খাতায়-কলমে’ জয়ের কৌশল হিসেবেই খামেনেইয়ের সাথে তাঁর এই আসন্ন বৈঠককে দেখা হচ্ছে, যেখানে মূল এজেন্ডা হিসেবে থাকবে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি।

সংঘাতের মূল কারণ ও শর্তের টানাপোড়েন

এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের মূল কারণ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই ওয়াশিংটনের স্পষ্ট শর্ত ছিল, ইরানকে তাদের সমস্ত পারমাণবিক কার্যকলাপ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং মজুত থাকা পারমাণবিক উপাদান পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে। তবে তেহরান শুরু থেকেই আমেরিকার এই শর্তকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখে আসছে। এই নীতিগত অবস্থানের পার্থক্যের কারণেই এতদিন দুই দেশের মধ্যে কোনো কার্যকর সমঝোতা সম্ভব হয়নি।

ভূ-রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকটি সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলা অস্থিরতা ও যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে। তবে ট্রাম্পের কঠোর শর্ত এবং ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জেদের কারণে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। চুক্তি শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষরিত হলে তা ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে গণ্য হবে, আর তা না হলে অঞ্চলটিতে সামরিক সংঘাত আরও তীব্র রূপ নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *