পরমাণু সমঝোতার পথে ট্রাম্পের ‘মাস্টারস্ট্রোক’! ইরানকে বাগে আনতে ওক রিজ গবেষণাগারে গোপন বৈঠক

পরমাণু সমঝোতার পথে ট্রাম্পের ‘মাস্টারস্ট্রোক’! ইরানকে বাগে আনতে ওক রিজ গবেষণাগারে গোপন বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদন: ভূ-রাজনীতির উত্তাল সমীকরণে বড়সড় বদলের ইঙ্গিত। দীর্ঘদিনের সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধের দামামার মাঝে দাঁড়িয়ে এবার ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতার পথে হাঁটছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কি পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ইরানকে চিরতরে নিরস্ত্র করতেই এমন কৌশল নিল হোয়াইট হাউস? সম্প্রতি টেনেসির ওক রিজ জাতীয় গবেষণাগারে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূতের জরুরি বৈঠক সেই জল্পনাকেই কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

কূটনীতির নতুন গোলটেবিল:

ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনারের নেতৃত্বে এই বৈঠক ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। সামরিক শক্তির বদলে কূটনৈতিক চাপ তৈরিতে প্রায় ১০০ জন বিশেষজ্ঞের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য পরিষ্কার—আলোচনার টেবিলেই ইরানের পরমাণু সম্পদের ভাণ্ডার স্থায়ীভাবে ধ্বংসের ছক কষা। ওয়াশিংটনের কৌশল এখন স্পষ্ট: সামরিক অভিযানের চেয়েও বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে এই কারিগরি ও সংবেদনশীল চুক্তি।

চুক্তি কি আদৌ সম্ভব?

ইরান আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি হলেও, আমেরিকার কঠোর শর্তাবলী—বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো ধ্বংসের দাবি—নিয়ে তেহরানের আপত্তি এখনো পাহাড়প্রমাণ। এই অচলাবস্থা ভাঙতে এখন আসরে নেমেছে পাকিস্তান ও মিশর। পাকিস্তানের মন্ত্রী মহসিন নকভির তেহরান সফর এবং ইরানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এক নতুন কূটনৈতিক মোড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্রাম্পের ‘জিরো-টলারেন্স’ নীতি:

গত ফেব্রুয়ারির সেই সামরিক অভিযানের পরেও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন প্রশাসন যে গভীর উদ্বেগে আছে, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। হোয়াইট হাউসের অন্দরের খবর, এবার কোনো দীর্ঘমেয়াদী সমঝোতায় পৌঁছাতেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখছে ওয়াশিংটন। ইরানকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে কোনোমতেই মানতে নারাজ ট্রাম্প। সামরিক চাপের মুখে থাকা তেহরান কি শেষ পর্যন্ত আমেরিকার এই কঠোর শর্তে সই করবে? নাকি পরমাণু বিতর্ক নিয়ে আবারও কোনো নতুন সংঘাতের আগুনে পুড়বে বিশ্ব? উত্তর দেবে সময়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *