পরিযায়ী শ্রমিক ও ছাত্রদের সুবিধার্থে ফ্রি ট্রেড এলপিজি সিলিন্ডারের জোগান বাড়াল কেন্দ্র
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এবং এলপিজি আমদানিতে কিছুটা প্রভাব পড়লেও দেশের সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর দিল কেন্দ্রীয় সরকার। বিশেষ করে ভিন রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিক, দিনমজুর এবং ঘরোয়া শিক্ষার্থীদের রান্নার গ্যাসের সমস্যা মেটাতে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৫ কেজির ফ্রি ট্রেড (Free Trade) এলপিজি সিলিন্ডারের জোগান এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করা হচ্ছে।
পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সুরাহা
গত মার্চ মাসের শুরুর দিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিযায়ী শ্রমিকদের এলপিজি ব্যবহারের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারগুলির খাদ্য ও সিভিল সাপ্লাই দপ্তরের মাধ্যমে এই ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারগুলোর পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করা হবে। মূলত যাঁদের স্থায়ী ঠিকানার নথি নেই, তাঁরা যাতে অনায়াসেই রান্নার গ্যাস সংগ্রহ করতে পারেন, সেটিই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
শিথিল করা হয়েছে কেনার নিয়ম
পরিযায়ী শ্রমিক ও ছাত্রদের সুবিধার্থে ফ্রি ট্রেড সিলিন্ডার কেনার নিয়ম অনেকটাই সহজ করা হয়েছে:
- ঠিকানার প্রমাণপত্রের প্রয়োজন নেই: এখন থেকে এই ধরনের সিলিন্ডার কিনতে স্থায়ী ঠিকানার কোনো নথি লাগবে না।
- সহজ নথিভুক্তি: শুধুমাত্র পরিচয়পত্র এবং একটি স্ব-ঘোষণাপত্র (সেল্ফ ডিক্ল্যারেশন) জমা দিলেই এই গ্যাস পাওয়া যাবে।
- ব্যবহারের সুবিধা: মূলত যাঁরা ভিন রাজ্যে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, তাঁরা ডিস্ট্রিবিউটারের কাছ থেকে সহজেই এই সুবিধা নিতে পারবেন।
ফ্রি ট্রেড সিলিন্ডার আসলে কী?
ফ্রি ট্রেড এলপিজি সিলিন্ডার হলো এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার স্থায়ী ঘরোয়া কানেকশন ছাড়াই খোলা বাজার থেকে গ্যাস কেনা যায়।
- এই সিলিন্ডার সাধারণত ৫ কেজি ও ১০ কেজি ওজনের হয়ে থাকে।
- এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাসিক কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই, অর্থাৎ চাহিদা অনুযায়ী একাধিকবার কেনা সম্ভব।
- তবে মনে রাখা জরুরি, এই সিলিন্ডার শুধুমাত্র ঘরোয়া রান্নার কাজে ব্যবহার করা যাবে; বাণিজ্যিক ব্যবহারে এর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
কেন এই পদক্ষেপ?
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এলপিজি আমদানিতে টান পড়ার আশঙ্কা থাকলেও কেন্দ্র বারবার আশ্বস্ত করেছে যে দেশে গ্যাসের কোনো সংকট নেই। তবে স্থানীয় স্তরে সরবরাহ বজায় রাখতে এবং আর্থিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা শ্রেণিকে কালোবাজারির হাত থেকে রক্ষা করতেই ফ্রি ট্রেড সিলিন্ডারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অল ইন্ডিয়া এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটার্স ফেডারেশনের মতে, স্থায়ী ঠিকানা না থাকা ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি কার্যকর সমাধান, যা তাঁদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রাকে সহজ করবে।
একঝলকে
- ৫ কেজির ফ্রি ট্রেড এলপিজি সিলিন্ডারের বরাদ্দ দ্বিগুণ করল কেন্দ্র।
- সিলিন্ডার পাওয়ার জন্য এখন আর স্থায়ী ঠিকানার নথির প্রয়োজন নেই।
- পরিযায়ী শ্রমিক, দিনমজুর এবং ভিন রাজ্যের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।
- পরিচয়পত্র ও স্ব-ঘোষণাপত্র জমা দিয়েই গ্যাস সংগ্রহ করা যাবে।
- এই গ্যাস বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
