পাইপ বেয়ে চোর বাবাজির এন্ট্রি! দিল্লিতে ফের সক্রিয় ভয়ঙ্কর ‘কাচ্চা বানিয়ান’ গ্যাং

দিল্লির জনপদে আবারও ফিরে এসেছে কুখ্যাত ‘কাচ্চা বানিয়ান’ গ্যাংয়ের আতঙ্ক। অতি সম্প্রতি দক্ষিণ দিল্লির নেব সরাই এবং সর্বোদয় এনক্লেভ এলাকায় পর পর দুটি দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। গত ১ মে সর্বোদয় এনক্লেভের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে মাত্র চার মিনিটের অপারেশনে লক্ষাধিক টাকার গয়না লুট করে পালায় এই চক্রের সদস্যরা। তবে এবার পুলিশি অভিযানে ধরা পড়েছে মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলা থেকে আসা এই চক্রের ছয় সদস্য।
অপারেশন স্টাইল ও অপরাধের ধরন
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষ ও প্রশিক্ষিত। তারা মূলত মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের যাযাবর ‘পারধি’ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। তাদের অপরাধ করার পদ্ধতিটি বিচিত্র ও ভয়াবহ। এরা বৃষ্টির পাইপ বেয়ে অনায়াসে বহুতল ভবনের ব্যালকনিতে উঠে পড়তে পারে। সাধারণত অমাবস্যার অন্ধকার রাতে এরা শিকারে বের হয়। ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতে শরীরে তেল বা গ্রিজ মেখে নেয় এবং পরনে থাকে কেবল অন্তর্বাস বা গেঞ্জি, যেখান থেকেই এই ‘কাচ্চা বানিয়ান’ নামের উৎপত্তি। এরা দামী হীরা বা পাথরের গুরুত্ব বোঝে না, সেগুলোকে সাধারণ কাঁচ মনে করে ফেলে দেয় এবং শুধুমাত্র সোনা ও নগদ অর্থের দিকেই নজর দেয়।
সামাজিক পটভূমি ও প্রভাব
এই অপরাধী গোষ্ঠীগুলো মূলত মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলাকে কেন্দ্র করে কাজ করে। তাদের কাছে অপরাধ এক প্রকার পারিবারিক পেশার মতো, যা বংশপরম্পরায় চলে আসছে। দিনের বেলা এরা তাবুতে বাস করে এবং বিভিন্ন এলাকায় রেইকি বা নজরদারি চালায়। এরা সাধারণত বড় পার্ক বা বনাঞ্চল সংলগ্ন আবাসনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে, যাতে চুরির পর অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়া যায়। ১৯৯০-এর দশকে এরা খুনের নেশায় মত্ত থাকলেও, বর্তমানে সিসিটিভি এবং উন্নত প্রযুক্তির ভয়ে প্রাণনাশের চেয়ে লুটপাটেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
এই চক্রটিকে ধরা পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এরা নিজ গ্রামে অত্যন্ত ঐক্যবদ্ধ এবং বহিরাগত কাউকে তথ্য দিলে কঠোর শাস্তির বিধান থাকে। সম্প্রতি আম্বেদকর নগরের জহানপনা জঙ্গলে পুলিশের সঙ্গে এই চক্রের গোলাগুলিও হয়েছে, যেখানে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে তিন অপরাধী আহত হয়। রাজধানীতে এই গ্যাংয়ের পুনরাবির্ভাব নতুন করে নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
