পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ফেরাতে ভরসা একমাত্র মোদীই, রাষ্ট্রপুঞ্জে ইসলামাবাদের অত্যাচার ফাঁস করল ভারত – এবেলা

পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ফেরাতে ভরসা একমাত্র মোদীই, রাষ্ট্রপুঞ্জে ইসলামাবাদের অত্যাচার ফাঁস করল ভারত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওজেকে) নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অবস্থান আরও কঠোর করল ভারত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং সাফ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই একমাত্র নেতা যিনি পাকিস্তানের দখলে থাকা কাশ্মীরকে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ঐতিহাসিক ও অমীমাংসিত কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন। ১৯৯৪ সালের সর্বসম্মত সংসদীয় প্রস্তাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, জম্মু, কাশ্মীর এবং লাদাখের সম্পূর্ণ অংশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কাউন্সিলে (ইউএনএইচআরসি) পাকিস্তানের দমনপীড়নের নীতি ও উপত্যকায় চলা চরম অশান্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে ইসলামাবাদকে তীব্র ভাষায় নিশানা করেছে নয়াদিল্লি।

ঐতিহাসিক প্রস্তাব ও কেন্দ্রের কড়া বার্তা

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের এই মন্তব্য ভারতের দীর্ঘমেয়াদি ও আপসহীন আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করে। ১৯৯৪ সালের সংসদীয় প্রস্তাব অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একমাত্র অমীমাংসিত বিষয় হলো পাকিস্তানের বেআইনি দখলদারি থেকে ভারতীয় ভূখণ্ড মুক্ত করা। ইসলামাবাদের বৈষম্যমূলক নীতির সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, পাকিস্তান বরাবরই ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে দেখে এসেছে। আর এই দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অখণ্ড ভারতের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষমতা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কেবল প্রধানমন্ত্রী মোদীরই রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের মুখোশ উন্মোচন

ইসলামিক সহযোগিতা সংগঠন (ওআইসি) এবং পাকিস্তানের তোলা সমস্ত ভিত্তিহীন অভিযোগ আন্তর্জাতিক মঞ্চে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের পার্মানেন্ট মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি অনুপমা সিং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা, চরম অর্থনৈতিক সংকট এবং সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার মতো গুরুতর বিষয়গুলো থেকে বিশ্ববাসীর নজর ঘোরাতেই পাকিস্তান প্রতিবার রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চকে ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে।

পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে তীব্র অশান্তি ও প্রভাব

বর্তমানে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালাকোটসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পরিস্থিতি অত্যন্ত অগ্নিগর্ভ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেখানে রুটি, বিদ্যুৎ ও মৌলিক অধিকারের দাবিতে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, যার জবাবে পাক সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী নির্মম দমনপীড়ন চালাচ্ছে। সম্প্রতি ঈদগাহ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানি সেনার জোরপূর্বক জমি দখল, জনসংখ্যার চরিত্র বদলের চেষ্টা এবং মানুষের স্বাধীনতা হরণের ফলেই আজ সেখানে এই গণ-বিস্ফোরণ ঘটেছে। কেন্দ্রের এই কঠোর অবস্থান ও আন্তর্জাতিক চাপ আগামী দিনে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং নিয়ন্ত্রণরেখার স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *