পারফেক্ট ‘১০’ নয়, শান্তিময় ‘৬-৭’! প্রেমে কেন বদলাচ্ছে জেন-জির পছন্দ? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
একসময় ডেটিং মানেই ছিল জমকালো আয়োজন, গভীর রাতের কথপোকথন আর তীব্র শারীরিক বা মানসিক আকর্ষণ। কিন্তু আধুনিক ডেটিং অ্যাপ, সিচুয়েশনশিপ আর ঘোস্টিংয়ের যুগে সেই সিনেমাটিক রোমান্সের মোহ কাটতে শুরু করেছে। নিখুঁত বা ‘পারফেক্ট’ সঙ্গীর খোঁজে ক্লান্ত হয়ে তরুণ প্রজন্ম (জেন-জি) এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মানসিক শান্তি ও ধারাবাহিকতাকে।
এই জায়গা থেকেই উঠে এসেছে ‘৬-৭ ডেটিং’ (6-7 dating) ধারণাটি।
‘৬-৭ ডেটিং’ আসলে কী?
একটি কাল্পনিক স্কেলে যদি কোনো বাহ্যিকভাবে অত্যন্ত আকর্ষণীয়, রোমাঞ্চকর বা ক্যারিশম্যাটিক সঙ্গীকে ‘১০’ ধরা হয়, তবে ‘৬ বা ৭’ হলেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি হয়তো প্রথম দেখায় ততটা চমক তৈরি করেন না। কিন্তু সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় গুণগুলো—যেমন সম্মান, দায়িত্ববোধ, মানসিক পরিপক্বতা এবং ধারাবাহিকতা—তাঁর মধ্যে ভরপুর থাকে। সহজ কথায়, ক্ষণিকের উত্তেজনাকর ‘১০’-এর পেছনে না ছুটে মানসিক নিরাপত্তা দেয় এমন ‘৬ বা ৭’ রেটিংয়ের সঙ্গীকে বেছে নেওয়াই হলো এই দর্শনের মূল কথা।
কেন বদলে যাচ্ছে ট্রেন্ড?
ডেটিং অ্যাপের যুগে প্রতিদিন হাজারও প্রফাইল সোয়াইপ করার সুযোগ থাকায় মানুষ প্রায়ই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ভাবতে শুরু করে, “হয়তো এর চেয়েও ভালো কেউ অপেক্ষা করছে।” ফলে সম্পর্কের স্থায়িত্ব কমে যায়। ‘৬-৭ ডেটিং’ ট্রেন্ডটি মানুষকে তীব্র উন্মাদনা বা আবেশের চেয়ে মানসিক সুরক্ষা ও সামঞ্জস্যকে (compatibility) প্রাধান্য দিতে শেখায়।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, ধারণার দিক থেকে এটি স্বাস্থ্যকর হলেও মানুষকে এভাবে নম্বরে মাপা বা ব্যক্তিত্বকে অতি-সরলীকরণ করা ঠিক নয়।
- একজন মানুষ দেখতে খুব আকর্ষণীয় (১০) হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে পরিপক্ব ও বিশ্বস্তও হতে পারেন।
- সৌন্দর্য এবং ভালো চরিত্র—এই দুটো বিষয় কখনোই একে অপরের বিপরীত নয়।
- তাছাড়া, কম আকর্ষণীয় কারো সাথে শুধুই ‘আপস’ করার মানসিকতা নিয়ে সম্পর্কে জড়ানো মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়।
উপসংহার: দিনশেষে আসল গ্রীন ফ্ল্যাগ কোনো ৬, ৭ বা ১০ নম্বর নয়। দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য আসল বিষয় হলো এমন একজন মানুষকে খুঁজে পাওয়া যিনি কথা রাখেন, যোগাযোগ বজায় রাখেন এবং আপনার জীবনে মানসিক শান্তি এনে দেন।
