পুজোর আগে মিড ডে মিলে তাক লাগাল স্কুল! গরম গরম চিকেন বিরিয়ানি খেয়ে খুশিতে ডগমগ পড়ুয়ারা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মিড ডে মিল মানেই গতানুগতিক ভাত, ডাল আর সবজি—এই ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পুজোর উৎসবে মেতে উঠল হাওড়ার এক স্কুল। আসন্ন দুর্গাপুজোর আনন্দকে দ্বিগুণ করতে মিড ডে মিলের সাধারণ মেনু বদলে পড়ুয়াদের পাতে দেওয়া হলো গরম গরম সুস্বাদু চিকেন বিরিয়ানি। মধ্য হাওড়ার ব্যাঁটরা মধুসূদন পাল চৌধুরী হাই স্কুলের প্রায় আড়াইশো পড়ুয়ার মুখে হাসি ফোটাতে এই অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই পড়াশোনা থেকে কচিকাঁচাদের মন কিছুটা দূরে। তবে আজ তাঁদের স্কুলে যাওয়ার আনন্দ ছিল একেবারেই আলাদা। কারণ মিড ডে মিলের থালায় অপেক্ষা করছিল ধোঁয়া ওঠা চিকেন বিরিয়ানি।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসেই মধ্য হাওড়ার এই স্কুলটি পরিদর্শনে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সারথি প্রকল্পে সাইকেল বিতরণের পর তিনি ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বসে মিড ডে মিলের খাবার খান। এমনকি পরের দিন শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য মাছ ও রসগোল্লা উপহার পাঠিয়েছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই বিশেষ উদ্যোগ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ পড়ুয়াদের জন্য কিছু বিশেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
কোনো সরকারি অনুদান নয়, বরং স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে চাঁদা তুলে এই বিরিয়ানির আয়োজন করেন। দুপুরে যখন ছাত্রছাত্রীদের থালায় গরম গরম বিরিয়ানি পরিবেশন করা হয়, তখন তাদের উল্লাস ছিল দেখার মতো। সকলেই বেশ চেটেপুটে তা উপভোগ করে।
এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তন্ময় চক্রবর্তী অত্যন্ত সুন্দর একটি বার্তা দিয়ে জানান, “স্কুল মানেই আরেকটি পরিবার। এখানে পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরা আনন্দ করবে, ভালো থাকবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য। বিদ্যালয়টিকে একটি আনন্দমুখর প্রাঙ্গণ হিসেবে গড়ে তুলতে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ আমাদের ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।”
বর্তমানে রাজ্যের বহু বাংলা মাধ্যম স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কমলেও, মধ্য হাওড়ার এই স্কুলটি এক ব্যতিক্রমী ও ইতিবাচক ছবি তুলে ধরল। শুধু তাই নয়, স্কুলটিকে ভবিষ্যতে একটি আদর্শ ‘স্মার্ট স্কুল’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রশাসনের কাছে বিশেষ আবেদনও জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
