‘পুলিশ নিষ্ক্রিয়, আদালত নীরব দর্শক!’ দুই কর্মীর মৃত্যুতে অগ্নিশর্মা অভিষেক – এবেলা

‘পুলিশ নিষ্ক্রিয়, আদালত নীরব দর্শক!’ দুই কর্মীর মৃত্যুতে অগ্নিশর্মা অভিষেক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে অশান্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সপ্তগ্রাম ও চাকদহে দুই তৃণমূল কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি বিজেপি সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে বর্তমানে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ চলছে এবং পুলিশ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

টার্গেট তৃণমূল কর্মীরা

তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি অনুযায়ী, সপ্তগ্রামের সোমনাথ আচার্য এবং চাকদহের তপন শিকদারকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছিল। হাসপাতালে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে সমর্থন করার কারণেই ‘বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা’ এই হামলা চালিয়েছে। বিজেপি শাসিত বাংলায় তৃণমূল করা কি এখন অপরাধ—এই প্রশ্ন তুলে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতাকে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর মতে, একদিকে যখন জয়ী পক্ষ উৎসবে মত্ত, অন্যদিকে তখন বিরোধী কর্মীরা খুনের শিকার হচ্ছেন।

আইন-শৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

ঘটনার কারণ ও প্রভাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক সংঘর্ষের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বর্তমানে রাজ্যে এক চরম আইনহীনতা বিরাজ করছে যেখানে সাধারণ মানুষ ও বিরোধী সমর্থকরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, পুলিশ এখন নিষ্ক্রিয় এবং বিচারব্যবস্থাও এই অরাজকতা রুখতে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, সাধারণ অপরাধমূলক ঘটনাকে রাজনৈতিক রং দিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে তৃণমূল। তবে এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *