পেঁয়াজের দাম বাড়াল কেন্দ্র, তাও ক্ষোভে ফুঁসছেন কৃষকরা! বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কায় বাজার – এবেলা

পেঁয়াজের দাম বাড়াল কেন্দ্র, তাও ক্ষোভে ফুঁসছেন কৃষকরা! বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কায় বাজার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়া দিল্লি: পেঁয়াজ চাষিদের জন্য বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি বাফার স্টক বা আপৎকালীন মজুত গড়ে তোলার জন্য এবার থেকে বাড়তি দামে পেঁয়াজ কিনবে কেন্দ্র। মিনিমাম অ্যাসিওরড প্রোকিওরমেন্ট প্রাইস (MAPP) কুইন্টাল প্রতি ১,৫৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬৫০ টাকা করার ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) থেকেই এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রকের এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী জানিয়েছেন, বর্তমান মাণ্ডির দর এবং সংরক্ষণের উপযুক্ত পেঁয়াজের গুণগত মান বিবেচনা করেই এই নতুন ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে বাজারদর ও গুণগত মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পদ্ধতিতে কিছু বদল আনা হয়েছে। চলতি মরসুমে গত ১৫ মে থেকেই সরকারি পেঁয়াজ সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

নতুন দামেও কেন খুশি নন কৃষকরা?

সরকারিভাবে দাম বাড়ানো হলেও তা চাষিদের মন গলাতে পারেনি। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের কৃষক সংগঠনগুলি কুইন্টাল প্রতি ৩,০০০ টাকা ক্রয়মূল্যের দাবি জানিয়ে আসছিল। কৃষকদের বক্তব্য, সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরি সহ পেঁয়াজ উৎপাদনের খরচ যেভাবে আকাশছোঁয়া হয়েছে, তাতে সরকারের এই সামান্য মূল্যবৃদ্ধি কার্যত মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো। এই দামে তাঁদের উৎপাদন খরচই উঠবে না।

কমছে সরকারি সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা:

বাজারের ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার প্রতি বছর ‘প্রাইস স্ট্যাবিলাইজ়েশন ফান্ড’ (PSF)-এর অধীনে পেঁয়াজ কিনে মজুত করে। পরে বাজারে জোগান কমলে বা দাম অস্বাভাবিক বাড়লে এই পেঁয়াজ বাজারে ছাড়া হয়। তবে এবার ২০২৬-২৭ মরসুমে কেন্দ্র মাত্র ২ লক্ষ টন পেঁয়াজ সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছে, যা আগের মরসুমের (৩ লক্ষ টন) তুলনায় অনেকটাই কম।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ সালে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন ৩০৭.৩৭ লক্ষ টন হতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য কম। ফলে আগামী দিনে পেঁয়াজের বাজারদর সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে নাকি কৃষকদের অসন্তোষের জেরে ঝাঁঝ আরও বাড়বে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *