পেট্রোলের খরচ কমাতে চান? বদলে ফেলুন গাড়ি চালানোর ধরন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে যখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা, তখন নতুন করে পেট্রোলের দাম বাড়ার গুঞ্জন গাড়ি মালিকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই জ্বালানি খরচের ভয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি বের করতে দ্বিধাবোধ করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল গাড়ি চালানো কমিয়ে নয়, বরং গাড়ি চালানোর ধরনে সামান্য কিছু পরিবর্তন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব। সঠিক কৌশল জানা থাকলে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাইলেজ বাড়িয়ে পকেটের টান কমানো সম্ভব।
ড্রাইভিং অভ্যাস ও গতি নিয়ন্ত্রণ গাড়ি চালানোর সময় হঠাত গতি বাড়ানো বা ঘন ঘন হার্ড ব্রেক করার অভ্যাস জ্বালানি দ্রুত কমিয়ে দেয়। মসৃণভাবে গাড়ি চালালে হাইওয়েতে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় হতে পারে। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ ট্র্যাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকলে ইঞ্জিন বন্ধ রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। দীর্ঘপথের যাত্রায় বা হাইওয়েতে ক্রুজ কন্ট্রোল ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ওপর চাপ কমে, যা সরাসরি জ্বালানি সাশ্রয়ে সাহায্য করে।
রক্ষণাবেক্ষণ ও যান্ত্রিক সচেতনতা গাড়ির চাকার হাওয়ার চাপ মাইলেজের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। টায়ারের চাপ সঠিক থাকলে ৩ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় হয়। একইভাবে, নোংরা এয়ার ফিল্টার বদলে ফেললে মাইলেজ ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। উচ্চ গতিতে গাড়ি চালানোর সময় জানালা খোলা রাখলে বাতাসের বাধায় ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়, তাই ৬৫ কিমি প্রতি ঘণ্টার বেশি গতিতে জানালা বন্ধ রেখে এসি চালানোই অধিক সাশ্রয়ী। পাশাপাশি গাড়িতে অপ্রয়োজনীয় ওজন বহন করা এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ প্রতি ২৫ কেজি অতিরিক্ত ওজনের জন্য জ্বালানি খরচ ১ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পায়।
এক ঝলকে
- মসৃণভাবে গাড়ি চালানো এবং অপ্রয়োজনীয় ব্রেক এড়িয়ে চললে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় হয়।
- টায়ারের সঠিক এয়ার প্রেশার বজায় রাখা এবং নিয়মিত এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করা মাইলেজ বাড়াতে অপরিহার্য।
- ট্র্যাফিক সিগন্যালে ইঞ্জিন বন্ধ রাখা এবং হাইওয়েতে জানালা বন্ধ রেখে এসি চালানো সাশ্রয়ী কৌশল।
- গাড়ির ওজন কমাতে অপ্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে রাখা এবং সঠিক গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা জরুরি।
