প্রচণ্ড গরম, একটা এসি লাগিয়ে দাও না! ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল দম্পতি, ঘরে এসি না আসায় চরম পরিণতি বেছে নিলেন তরুণী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চেন্নাইয়ের তিরুভাল্লুর জেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল এলাকাবাসী। অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ হয়ে স্বামীর কাছে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) কেনার আবদার করেছিলেন ২৫ বছর বয়সী তরুণী মণিকা। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্বামী আকাশ সেই দাবি মেটাতে না পারায় শুরু হয় পারিবারিক বিবাদ। এর জেরেই শেষ পর্যন্ত নিজের শোবার ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই গৃহবধূ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাত্র দুই বছর আগে স্কুল-কলেজ জীবনের প্রণয় থেকে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তাঁরা।
দাম্পত্য কলহ ও আর্থিক টানাপড়েন
তদন্তে জানা গেছে, আকাশ একটি পোশাকের দোকানে সেলসম্যানের কাজ করেন। সীমিত আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে এসির মতো বিলাসদ্রব্য কেনা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক প্রচণ্ড দাবদাহে অসুস্থ বোধ করছিলেন মণিকা। রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়ায় তিনি বারবার স্বামীকে এসি লাগানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। ঘটনার দিন রাতেও এই নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যরা যখন গরমের হাত থেকে বাঁচতে বাড়ির ছাদে ঘুমাতে যান, তখন মণিকা ঘরের ফ্যানের সাথে শাড়ির ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন।
পুলিশি তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি
সকালে পরিবারের সদস্যরা ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয় থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়েছে। যেহেতু তাঁদের বিয়ের বয়স মাত্র দুই বছর, তাই আইন অনুযায়ী এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক বিবাদ বা পণের চাপ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এসির অভাব এবং তীব্র মানসিক অভিমানকেই এই আত্মহত্যার কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ একটি নাগরিক চাহিদার অপূর্ণতা কীভাবে একটি সাজানো সংসার ছারখার করে দিল, তা নিয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এক ঝলকে
- চেন্নাইয়ের তিরুভাল্লুর জেলায় এসি কেনাকে কেন্দ্র করে বিবাদের জেরে ২৫ বছর বয়সী মণিকার আত্মহত্যা।
- দুই বছরের প্রেমজ বিবাহ হলেও আর্থিক অনটনের কারণে এসির দাবি মেটাতে পারেননি স্বামী আকাশ।
- পারিবারিক বিবাদের জেরে রাতের অন্ধকারে গলায় ফাঁস লাগিয়ে চরম সিদ্ধান্ত নেন ওই তরুণী।
- অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখছে স্থানীয় পুলিশ।
