প্রতিদিন ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র! ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে যাচ্ছে মার্কিন অস্ত্রাগার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক যুদ্ধ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক চরম ব্যয়বহুল সামরিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছালেও, গত এক মাসে মার্কিন কোষাগারের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে বিশাল আর্থিক ঝড়। দুই স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থার মতে, এক মাসের এই অভিযানে পেন্টাগন ইতিমধ্যে ২৮ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করে ফেলেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
শূন্যের কোঠায় উন্নত মিসাইল মজুত
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও নিউইয়র্ক টাইমসের অভ্যন্তরীণ তথ্যমতে, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্রভাণ্ডার প্রায় নিঃশেষ করে ফেলেছে। বিশেষ করে ৬০০ মাইল পাল্লার ১,১০০টি ‘জেএএসএসএম-ইআর’ (JASSM-ER) মিসাইল ছোড়া হয়েছে, যার প্রতিটি তৈরিতে খরচ হয় ১১ লাখ ডলার। উদ্বেগের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের মোট মজুতে থাকা ১,৫০০টি মিসাইলের সিংহভাগই এই যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়ে গেছে। এছাড়া এক হাজারেরও বেশি টমাহক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে, যার প্রতিটি গড়ে ৩৬ লাখ ডলার মূল্যের।
ভয়াবহ আর্থিক ও সামরিক প্রভাব
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম দুই দিনেই প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের গোলাবারুদ খরচ করেছে মার্কিন বাহিনী। গড়ে প্রতিদিন তাদের প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বা ৯৪ বিলিয়ন রুপি সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। বার্ষিক গড় ক্রয়ের তুলনায় ১০ গুণ বেশি মিসাইল এক মাসে ব্যবহার করায় পেন্টাগন এখন বড় ধরনের সামরিক ঘাটতির সম্মুখীন। দীর্ঘমেয়াদী এই ব্যয়ভার মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ইরান যুদ্ধে এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৮ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারে।
- প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার সামরিক খাতে খরচ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
- মজুত থাকা উন্নত প্রযুক্তির জেএএসএসএম-ইআর মিসাইলের প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি শেষ হয়ে গেছে।
- এক মাসে ১,০০০টির বেশি টমাহক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে, যা পেন্টাগনের বার্ষিক সংগ্রহের দশগুণ।
