প্রতি ঘণ্টায় ১২০ প্রাণহানি! ভারতীয় যুবসমাজের আকস্মিক মৃত্যুতে এনসিআরবির উদ্বেগজনক তথ্য

ভারতের কর্মক্ষম যুবসমাজের মধ্যে আকস্মিক মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি)-র সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। পরিসংখ্যান বলছে, দেশে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১২০ জন প্রাণ হারাচ্ছেন, যার বড় একটি অংশই যুবক। বিশেষ করে ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত এক দশকের ব্যবধানে এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে; ২০১৭ সালে যেখানে আকস্মিক মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২৩,৩৯৬, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২,৬৮৮-তে।
হৃদরোগের ঝুঁকি ও ভ্যাকসিনের বিভ্রান্তি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুবকদের আকস্মিক মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক। ২০১৭ সালে ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১৪,০১১ জন পুরুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন, যা ২০২৪ সালে বৃদ্ধি পেয়ে ২৩,৬০০-তে পৌঁছেছে। কোভিডের পরবর্তী সময়ে হৃদরোগের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ে জনমনে নানা সংশয় তৈরি হলেও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এটি স্পষ্ট করেছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং এনসিডিসি-র গবেষণার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের সাথে হার্ট অ্যাটাকের সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই। মূলত জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতাই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী।
সড়ক দুর্ঘটনা ও লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানের চিত্র
হৃদরোগের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা আজও ভারতীয় যুবকদের অকাল মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। ২০২৪ সালের মোট আকস্মিক মৃত্যুর প্রায় ৪৩ শতাংশই ঘটেছে পথ দুর্ঘটনায়। যদিও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় প্রতিনিয়ত নতুন নির্দেশিকা জারি করছে, তবুও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই আকস্মিক মৃত্যুর শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা অনেক বেশি। ২০২৪ সালে মোট ৭৬,০২৪ জন মানুষের আকস্মিক মৃত্যুর মধ্যে ৮৪ শতাংশই ছিলেন পুরুষ (৬৩,৪৯৩ জন)। অন্যদিকে, নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ১৬.৫ শতাংশ। হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রেও পুরুষ ও নারীর অনুপাত যথাক্রমে ৮০ ও ২০ শতাংশ। কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং রাজপথে অসতর্কতাই এই অকাল মৃত্যুর মিছিলকে দীর্ঘতর করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
