প্রথম দিন কাজে গিয়েই মৃত্যুফাঁদ! তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের বলি জগদ্দলের স্বপন – এবেলা

প্রথম দিন কাজে গিয়েই মৃত্যুফাঁদ! তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের বলি জগদ্দলের স্বপন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: নতুন জায়গায় কাজে যোগ দেওয়ার প্রথম দিনেই নেমে এল বিপর্যয়। তারাতলায় ভেঙে পড়া নির্মীয়মাণ গুদামের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হলো জগদ্দলের বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সী স্বপন মণ্ডলের নিথর দেহ। বুধবার সকালে মেয়ে পিউয়ের হাত ধরে যে মানুষটি শেষবার স্টেশনে গিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার ফিরলেন কফিনে।

প্রথম দিনের কাজে মর্মান্তিক পরিণতি

গত ১৫-২০ বছর ধরে ঢালাইয়ের কাজ করে সংসার চালাতেন স্বপনবাবু। বুধবারই প্রথম তিনি তারাতলার ওই গুদামে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, জায়গাটি অনেক দূরে হওয়ায় প্রথমদিন তিনি কাজে যেতে ইতস্তত বোধ করছিলেন। কিন্তু বুধবার সাহস করে কাজে বেরোনোর পরই ঘটে গেল বিপত্তি। গুদামের ছাদ ধসে প্রায় ৪০ জন শ্রমিকের সঙ্গে তিনি আটকে পড়েন।

মেয়ে পিউয়ের সেই ‘শেষ দেখা’

বুধবার সকালে বাবার হাত ধরে স্টেশনে পৌঁছে দিয়েছিলেন মেয়ে পিউ। তিনিই এখন দিশেহারা। পিউয়ের কথায়, “বাবা বলেছিল স্টেশনে পৌঁছে দিতে। সকালে আমিই বাবাকে ট্রেনে তুলে দিয়েছিলাম, ভাবতেও পারিনি সেটাই হবে শেষ দেখা।”

বুধবার সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও বাবার ফোন না আসায় দুশ্চিন্তা শুরু হয় পরিবারের। বারবার ফোন করেও সুইচড অফ পাওয়ার পর যোগাযোগ করেন ঠিকাদারের সঙ্গে। তখন থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ লড়াই। ঘটনাস্থল, থানা এবং শেষে এসএসকেএম হাসপাতাল—রাতভর ছোটাছুটি করেও শেষ রক্ষা হলো না। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যকে হারিয়ে এখন শোকে পাথর জগদ্দলের ওই পরিবার। হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়েই প্রশাসনিক সব প্রক্রিয়া শেষ করে বাবার নিথর দেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মেয়ে পিউ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *