প্রশ্ন ফাঁসের জেরে বাতিল নিট, তদন্তের ভার গেল সিবিআইয়ের হাতে

দেশজুড়ে কয়েক লক্ষ চিকিৎসাপ্রার্থীর পরিশ্রমের ওপর জল ঢেলে বাতিল হয়ে গেল ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রাস টেস্ট বা নিট (ইউজি) পরীক্ষা। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া এই প্রবেশিকা পরীক্ষায় বড়সড় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) সোমবার পরীক্ষা বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুরো বিষয়টির তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্নফাঁস ও রাজস্থান যোগ
এবারের নিট পরীক্ষায় দুর্নীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উঠে এসেছে রাজস্থান। তদন্তে জানা গেছে, পরীক্ষার অন্তত এক মাস আগে ৪১০টি প্রশ্নের একটি সম্ভাব্য সেট কিছু পরীক্ষার্থীর হাতে পৌঁছেছিল। পরীক্ষার পর দেখা যায়, রসায়ন বিভাগের ১২০টি প্রশ্ন ও তাদের বিকল্পগুলি আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে। কোনো কোনো সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রের ১৩৫টি প্রশ্ন আসল পরীক্ষার মূলপত্রের সঙ্গে হুবহু এক ছিল। এই বড়সড় অসঙ্গতি প্রকাশ্যে আসতেই গোটা দেশে শোরগোল পড়ে যায়।
রাজনৈতিক চাপ ও এনটিএ-র সিদ্ধান্ত
নিট পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ২০২৪ সালের দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তীব্র চাপের মুখে এনটিএ শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা করে। যদিও নতুন পরীক্ষার সঠিক দিনক্ষণ এখনো জানানো হয়নি, তবে এনটিএ স্পষ্ট করেছে যে পরীক্ষার্থীদের পুনরায় আবেদন করতে হবে না বা কোনো নতুন ফি জমা দিতে হবে না।
পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রায় ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। মেধার লড়াইয়ে এই ধরনের জালিয়াতি শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। নতুন করে অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করা এবং পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে, যা ডাক্তারি পড়ার সেশন শুরুর ক্ষেত্রেও বিলম্ব ঘটাতে পারে। সিবিআই তদন্তের মাধ্যমে মূল চক্রীদের চিহ্নিত করাই এখন প্রশাসনের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ।
