প্রাক্তন মন্ত্রীর বান্ধবীর ‘শ্লীলতাহানি’ অভিযোগে ধৃত কনস্টেবল! মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কী বললেন অভিযোগকারিণী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতার বুকে খোদ রাজ্যের এক প্রাক্তন মন্ত্রীর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠল। দক্ষিণ কলকাতার একটি অভিজাত বহুতলে প্রাক্তন মন্ত্রীর ফ্ল্যাটেই তাঁর বান্ধবী এবং পরিবারের অন্য এক সদস্যের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের এক কনস্টেবলকে। রবিবার রাতের এই ঘটনায় রবীন্দ্র সরোবর থানা পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার পরিচয় দিলেও, শেষ পর্যন্ত ‘মুখ্যমন্ত্রী হেল্পলাইন’-এর হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
আক্রান্ত নারী পেশায় একজন প্রাক্তন অধ্যাপিকা। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্ত কনস্টেবল গত কয়েক দিন ধরেই মাসে ১৫ দিন ছুটির দাবিতে চাপ দিচ্ছিলেন। রবিবার ডিউটি থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রাক্তন মন্ত্রীর সঙ্গে কাজে বেরোতে অস্বীকার করেন। মন্ত্রী অন্য এক রক্ষীকে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার কিছু ক্ষণ পর, ওই কনস্টেবল মত্ত অবস্থায় পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ শুরু করেন। এতে বাধা দিতে গেলে তিনি প্রাক্তন মন্ত্রীর বান্ধবীর ওপর চড়াও হন, তাঁর হাত মুচড়ে দেন এবং অশ্রাব্য ভাষায় হুমকি দিতে থাকেন। বাড়িতে উপস্থিত অপর এক নিরাপত্তারক্ষীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশের গাফিলতি ও প্রশাসনের অতিসক্রিয়তা
ঘটনার পর স্থানীয় রবীন্দ্র সরোবর থানার ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারিণী। তাঁর দাবি, ঘটনার পর প্রথমে থানা ফোন তোলেনি। পরে প্রাক্তন মন্ত্রী নিজে উদ্যোগী হয়ে থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু কর্তব্যরত অবস্থায় মদ্যপান ছাড়া পুলিশ এই ঘটনার অন্য কোনো গুরুত্ব দিতে চায়নি এবং অপরাধকে লঘু করে দেখার চেষ্টা করে।
থানার এই গড়িমসি দেখে আক্রান্ত নারী সরাসরি ‘মুখ্যমন্ত্রী হেল্পলাইন’ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানান। হেল্পলাইনে অভিযোগ জমা পড়ার সাথে সাথেই নবান্নের নির্দেশে তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। লালবাজার ও স্থানীয় থানার ওপর চাপ সৃষ্টি হতেই দ্রুত পদক্ষেপ করে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ অভিযুক্ত কনস্টেবলকে গ্রেফতার করে। প্রশাসনের এই চটজলদি ভূমিকায় স্বস্তি প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রীর সদিচ্ছার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অভিযোগকারিণী।
ভিআইপি নিরাপত্তায় প্রশ্ন এবং সামাজিক প্রভাব
এই ঘটনা ভিআইপি বা হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকা পুলিশ কর্মীদের মানসিকতা এবং আচরণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। সাধারণ মানুষের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধেই মদ্যপ অবস্থায় নারীদের হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনের অন্দরেও অস্বস্তি বেড়েছে। এই ঘটনার ফলে একদিকে যেমন রক্ষী পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কঠোর স্ক্রিনিংয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছে ‘মুখ্যমন্ত্রী হেল্পলাইন’ যে একটি অত্যন্ত কার্যকর এবং নির্ভরযোগ্য মাধ্যম, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো।
