ফাইনালে হারের যন্ত্রণার মাঝেই অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন গুজরাত টাইটান্সের ক্রিকেটাররা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬ আইপিএল ফাইনালের রাতটি কোনোভাবেই ভালো কাটল না গুজরাত টাইটান্সের জন্য। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে শিরোপা হারানোর বেদনার মধ্যেই এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন শুভমন গিলসহ দলের অন্য ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফরা। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম থেকে হোটেলে ফেরার পথে গুজরাত টাইটান্সের টিম বাসে হঠাৎ আগুন লাগার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে বাসের ভেতর হু হু করে ধোঁয়া ঢুকতে শুরু করলে ক্রিকেটারদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে নিরাপত্তা কর্মী ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ম্যানেজমেন্টের তৎপরতায় কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
শর্ট সার্কিটের জের ও মাঝরাস্তায় আতঙ্ক
ম্যাচ শেষের পর হতাশাগ্রস্ত দল যখন বাসে করে হোটেলের দিকে রওনা দিয়েছিল, ঠিক তখনই ঘটে এই বিপত্তি। জানা গেছে, বাসের ভেতরে হঠাৎ করেই শর্ট সার্কিট হয় এবং নিমেষের মধ্যে চারিদিক ধোঁয়ায় ভরে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি বাসটি রাস্তার পাশে থামানো হয়। পিটিআই-এর একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ধোঁয়ায় দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই নিরাপত্তা রক্ষীরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের বাস থেকে বের করে আনেন। স্বস্তির বিষয় হলো, এই ঘটনায় দলের কোনো সদস্য বা স্টাফ আহত হননি। তবে গভীর রাতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাঝরাস্তায় বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় পুরো দলকে। পরবর্তীতে বিকল্প অন্য একটি বাসের ব্যবস্থা করে তাঁদের হোটেলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।
ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদের জোড়া ধাক্কা
ফাইনালের আগে থেকেই চরম ব্যস্ততা ও ভ্রমণের ধকলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন গুজরাতের ক্রিকেটাররা। গত ২৭ মে ধর্মশালা থেকে মুল্লানপুরে যাওয়ার পর, সেখানে ২৯ মে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচ খেলতে হয়েছিল তাঁদের। এরপর ৩০ মে আহমেদাবাদে ফেরার কথা থাকলেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমান সময়মতো ছাড়েনি। ফলে শনিবার গভীর রাতে আহমেদাবাদে এসে পৌঁছায় দল। এই শারীরিক ক্লান্তির পর ফাইনালে আরসিবির কাছে ৫ উইকেটে হার মানসিকভাবে ভেঙে চুরমার করে দেয় টাইটান্স শিবিরকে। সেই ট্রফি হারানোর ক্ষতের রেশ কাটতে না কাটতেই এই বাস দুর্ঘটনা ক্রিকেটারদের রীতিমতো বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তবে বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে ক্রিকেট মহল।
