ফের রক্তে রাঙালো ছত্তিশগড়! আইইডি বিস্ফোরণে ৩ জওয়ানের মৃত্যু

ফের রক্তে রাঙালো ছত্তিশগড়! আইইডি বিস্ফোরণে ৩ জওয়ানের মৃত্যু

ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুর জেলায় মাওবাদীদের পাতা আইইডি বিস্ফোরণে ফের রক্তাক্ত হলো ভারতের মাটি। সীমান্তবর্তী ছোটবেটিয়া থানা এলাকার গভীর জঙ্গলে নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর এই অতর্কিত হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জওয়ান। এছাড়া এক জওয়ান গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে মাওবাদী নির্মূল করার দাবি জানানোর অল্প সময়ের মধ্যেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ফের একবার লাল সন্ত্রাসের অস্তিত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।

অভিযানের পথেই অতর্কিত হামলা

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নারায়ণপুরের ওই দুর্গম বনাঞ্চলে মাওবাদীদের পুঁতে রাখা আইইডি নিষ্ক্রিয় করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছিল নিরাপত্তাবাহিনী। জওয়ানরা যখন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে জঙ্গল দিয়ে এগোচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে ঘটনাস্থলেই চার জওয়ান গুরুতর জখম হন। উদ্ধারকারী দল দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করলেও পথেই তিনজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে নতুন করে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে যৌথ বাহিনী।

নিরাপত্তা ও কৌশলে বড় চ্যালেঞ্জ

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে ‘মাওবাদী মুক্ত ভারত’ গড়ার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন, এই ঘটনা তার সামনে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দুই বছরে কয়েকশো মাওবাদী নিহত হওয়া এবং বিপুল সংখ্যায় আত্মসমর্পণের পর সরকার যখন সাফল্যের দাবি করছিল, ঠিক তখনই এই হামলা নতুন করে রণকৌশল ভাবিয়ে তুলছে। মাওবাদীদের শীর্ষ নেতৃত্ব যে এখনও লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে নাশকতা চালানোর ক্ষমতা রাখে, এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। মাওবাদী দমনে সরকারের এই সাফল্যে আপাতত কিছুটা হলেও ভাটা পড়ার আশঙ্কা দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এক ঝলকে

  • ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুরে আইইডি বিস্ফোরণে ৩ জওয়ানের মৃত্যু ও ১ জন আহত।
  • ছোটবেটিয়া থানা এলাকার জঙ্গলে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার অভিযানের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
  • মাওবাদী মুক্ত ভারতের সরকারি ঘোষণার পরপরই এই হামলা বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
  • বর্তমানে ওই এলাকায় মাওবাদীদের খোঁজে বিশাল তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *