ফ্রিজে রাখা ডিম কি সত্যিই টাটকা নাকি বাসি? ফ্রিজে রাখা ডিম খাওয়ার আগে সাবধান – এবেলা

ফ্রিজে রাখা ডিম কি সত্যিই টাটকা নাকি বাসি? ফ্রিজে রাখা ডিম খাওয়ার আগে সাবধান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিমের চাহিদা আকাশচুম্বী। ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে অনেকেই বাজার থেকে একবারে প্রচুর পরিমাণে ডিম কিনে ফ্রিজে মজুত করেন। তবে দীর্ঘ সময় ডিম জমিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো তা পচে যাওয়া বা গুণমান নষ্ট হওয়া। একটি নষ্ট ডিম খাওয়ার ফলে শরীরে মারাত্মক ফুড পয়জনিং বা পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই রান্নার আগে ডিমের সতেজতা যাচাই করা স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।

জলেই মিলবে সমাধান

ডিম টাটকা না বাসি তা বোঝার সবচেয়ে বৈজ্ঞানিক ও সহজ পদ্ধতি হলো ‘ফ্লোট টেস্ট’। একটি গভীর পাত্রে জল নিয়ে তাতে ডিমটি আলতো করে ছেড়ে দিন। যদি ডিমটি সাথে সাথে জলের তলায় থিতিয়ে পড়ে, তবে নিশ্চিত থাকুন এটি একদম টাটকা। ডিমটি যদি জলের মাঝখানে কিছুটা হেলে থাকে, তবে বুঝতে হবে সেটি কয়েক সপ্তাহের পুরনো হলেও খাওয়ার যোগ্য। কিন্তু ডিমটি যদি জলের উপরিভাগে ভেসে ওঠে, তবে সেটি সম্পূর্ণ পচে গেছে এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণ করা উচিত নয়।

পরিবর্তনের মূল কারণ

মূলত সময়ের সাথে সাথে ডিমের ভেতরে থাকা বায়ুকোষের পরিবর্তন ঘটে। ডিম যত পুরনো হয়, খোসার সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে ভেতরে বাতাস প্রবেশের পরিমাণ তত বাড়তে থাকে। এর ফলে পচা ডিম ওজনে হালকা হয়ে যায় এবং অনায়াসে জলের ওপর ভাসতে শুরু করে। এছাড়া ডিম ভাঙার পর যদি কুসুমের রঙ স্বাভাবিক হলুদ বা কমলার পরিবর্তে গোলাপি বা কালচে দেখায় অথবা কোনো কটু গন্ধ পাওয়া যায়, তবে তা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।

সতর্কতাই সুস্থতার চাবিকাঠি

সাধারণত ফ্রিজের সঠিক তাপমাত্রায় ডিম ৩ থেকে ৫ সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে গ্রীষ্মের অত্যধিক গরমে বা আর্দ্রতার কারণে এই সময়সীমা অনেক সময় কমে যেতে পারে। বিশেষ করে খোসায় ফাটল ধরা ডিম দ্রুত নষ্ট হওয়ার প্রবণতা রাখে। তাই সুস্থ থাকতে বাজার থেকে আনা বা ফ্রিজে অনেকদিন ধরে রাখা ডিম রান্নার আগে একবার অন্তত ঘরোয়া পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।

এক ঝলকে

  • ডিম জলের ওপর ভেসে উঠলে বুঝতে হবে তা নষ্ট হয়ে গেছে এবং তা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
  • জলের তলায় ডিম থিতিয়ে পড়া মানেই সেটি সতেজ ও সম্পূর্ণ খাওয়ার যোগ্য।
  • কুসুমের রঙ অস্বাভাবিক হওয়া বা ডিম ভাঙার পর কটু গন্ধ পাওয়া ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির প্রমাণ দেয়।
  • ফ্রিজে সঠিক উপায়ে ডিম সংরক্ষণ করলে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত এর পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।
Admin
  • Admin

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *