বউভাতের রেশ কাটার আগেই শেষ! ‘তোর দিদি জ্যান্ত ফিরবে না’, ফোনে হুমকি দিয়েই খুন করল শাশুড়ি – এবেলা

বউভাতের রেশ কাটার আগেই শেষ! ‘তোর দিদি জ্যান্ত ফিরবে না’, ফোনে হুমকি দিয়েই খুন করল শাশুড়ি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিয়ের মেহেদির রঙ তখনও হাত থেকে মুছে যায়নি, তার আগেই পণের নিষ্ঠুর লালসার শিকার হলেন ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী। বিহারের ভোজপুর জেলার জগদীশপুর থানা এলাকার পিলাপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। বিয়ের মাত্র চার দিন পরেই পণের দাবিতে সঞ্জু কুমারী নামের ওই গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে।

মরণপণ হুমকির পরই সব শেষ

নিহত তরুণীর ভাই শিবম পালের বয়ান অনুযায়ী, গত ৭ মে বক্সার জেলার বাসিন্দা সঞ্জুর সঙ্গে বিনোদ পালের বিয়ে হয়েছিল। ১৩ মে সঞ্জুর প্রথমবার বাপের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। ১১ মে রাতে বোনকে নিতে আসার বিষয়ে কথা বলতে শিবম তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ফোন করেন। সেই সময় ফোনে সঞ্জুর শাশুড়ি চিৎকার করে হুমকি দিয়ে বলেন, “তোমার বোন এখান থেকে জ্যান্ত ফিরবে না, ওর লাশ বেরোবে।” এই হুমকির রেশ কাটতে না কাটতেই ফোনের ওপাশ থেকে সঞ্জুর আর্তনাদ শোনা যায় এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সোনার চেইনের লোভ ও নৃশংস পরিণতি

জানা গেছে, বিয়ের সময় নগদ ৪ লক্ষ টাকা, বাইক, ফ্রিজ এবং গয়না দেওয়া সত্ত্বেও সন্তুষ্ট ছিল না শ্বশুরবাড়ির লোকজন। একটি সোনার চেইনের দাবিতে বিয়ের পর থেকেই স্বামী বিনোদ পাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সঞ্জুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। এমনকি তাঁকে পরিবারের সঙ্গে ফোনেও কথা বলতে দেওয়া হতো না। অভিযোগ উঠেছে, ১১ মে রাতে সঞ্জুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য তড়িঘড়ি রাতের অন্ধকারেই শ্মশানে নিয়ে গিয়ে তাঁর দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরদিন সকালে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে সঞ্জুর ভাই যখন গ্রামে পৌঁছান, ততক্ষণে শ্মশানের চিতা প্রায় নিভে এসেছে। সেখানে কেবল কঙ্কালের কিছু অবশেষ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ঘটনার পর থেকেই স্বামী বিনোদ পালসহ শ্বশুরবাড়ির সকল সদস্য বাড়ি ছেড়ে পলাতক। পুলিশ এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে তল্লাশি শুরু করেছে। বিয়ের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *