বকরি ইদে গো-হত্যা নয়, সম্প্রীতি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বার্তা ইসলামিক সেন্টারের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আসন্ন বকরি ইদ উপলক্ষে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে ইসলামিক সেন্টার অব ইন্ডিয়া। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সনাল ল বোর্ডের সদস্য তথা ইসলামিক সেন্টার অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মৌলানা খালিদ রশিদ ফিরাঙ্গি মহালি আসন্ন উৎসবের প্রাক্কালে একটি ১২ দফা পরামর্শ বা অ্যাডভাইসরি প্রকাশ করেছেন। যেখানে শান্তি, সম্প্রীতি, আইন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসব উদযাপনের জন্য বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে। এই নির্দেশিকায় সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে বকরি ইদে গো-হত্যা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার ওপর। একই ধরনের সুর শোনা গেছে আজমেড় শরিফের মৌলবী সৈয়দ সারোয়ার চিস্তির গলাতেও, যিনি গো-হত্যা বন্ধের পাশাপাশি গরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দেওয়ার দাবি তুলেছেন।
আইন মান্যতা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা
ইসলামিক সেন্টারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মুসলিম সম্প্রদায় যেন কেবল মাত্র সেই সব পশুই কুরবানি দেয়, যার ওপর কোনও আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই। ভারতের বিদ্যমান আইনকে সম্মান জানিয়ে গরু বলিদান থেকে পুরোপুরি বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত দেশের আইন ব্যবস্থা ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে উৎসবের মরসুমে কোনও ধরনের সামাজিক উত্তেজনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। জনজীবনে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি অন্য সম্প্রদায়ের আবেগ ও অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল হওয়া এই নির্দেশিকার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি ও জনদুর্ভোগ এড়ানোর উদ্যোগ
বিজ্ঞপ্তিতে উৎসব উদযাপনের সময় জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে এবং পরিবেশের ক্ষতি না করতে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। রাস্তাঘাট বা সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জায়গায় নমাজ পাঠ এড়িয়ে ইদগা ও মসজিদের ভেতরেই প্রার্থনা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, কুরবানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রকাশ্যে, রাস্তায় বা গলির মধ্যে পশুহত্যা না করে সুনির্দিষ্ট স্থানে তা করতে হবে। কোনোভাবেই বলিকৃত পশুর বর্জ্য বাইরে ফেলা যাবে না এবং পুরসভা বা নগর নিগমের নির্ধারিত নিয়ম মেনে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে।
দেশের মঙ্গল ও সংকট মুক্তির বিশেষ প্রার্থনা
উৎসবের এই আবহে বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুসলিম সমাজকে প্রার্থনায় ব্রতী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ইদের নমাজের পর দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা, চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে মুক্তি এবং যেকোনো ধরনের আর্থিক সংকট থেকে দেশ যেন রক্ষা পায়, সেই উদ্দেশ্যে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করতে হবে। এই নির্দেশিকার সামগ্রিক প্রভাব সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদার করতে এবং পরিবেশবান্ধব ও সুশৃঙ্খল উৎসব পালনের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
