বঙ্গে তীব্র হচ্ছে ‘অপারেশন পদ্ম’, বিজেপির পথে তৃণমূলের একাধিক সাংসদ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জাতীয় রাজনীতিতে বড়সড় ওলটপালটের ইঙ্গিত দিয়ে এবার খোদ লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে ধস নামাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিজেপি। বিধানসভা স্তরের জল্পনা টপকে এবার সরাসরি দিল্লিতে ঘাসফুল শিবিরে বড়সড় ভাঙনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। লোকসভায় এই মুহূর্তে তৃণমূলের ২৯ জন সাংসদ রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় এক ডজন সাংসদ ইতিমধ্যেই বিজেপিতে যোগ দেওয়া অথবা তাদের সমর্থন জানানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে ফেলেছেন বলে রাজনৈতিক সূত্রে খবর। তালিকায় রয়েছে আরও বেশ কয়েকজন সাংসদের নাম, যা নিয়ে দিল্লির অলিন্দে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
আইনি সুরক্ষায় সংখ্যার পাটিগণিত
দলত্যাগ বিরোধী আইনের কোপ থেকে বাঁচতে অত্যন্ত সতর্কভাবে সংখ্যার হিসাব কষছেন দলবদলে ইচ্ছুক সাংসদরা। আইন অনুযায়ী, কোনো দলের দুই-তৃতীয়াংশ বা প্রায় সাড়ে ৬৬ শতাংশ সদস্য একসঙ্গে দল ছাড়লে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ হয় না। তৃণমূলের ২৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে এই ম্যাজিক সংখ্যাটি দাঁড়ায় ১৯ থেকে ২০ জনে। সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে ১২ জনের পর আরও ৬ থেকে ৮ জন সাংসদের সঙ্গে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এই সংখ্যাটি ছুঁয়ে ফেলতে পারলেই আগামী বর্ষাকালীন অধিবেশনে দলবদলের চূড়ান্ত চিত্রটি স্পষ্ট হতে পারে। দল ভাঙার এই খেলায় বিজেপি নেতৃত্বের সবুজ সংকেতও মিলেছে বলে জানা গেছে।
ভাঙনের কারণ ও অসন্তোষ
তৃণমূলের অন্দরে তৈরি হওয়া তীব্র ক্ষোভ ও কোন্দলই এই সম্ভাব্য ভাঙনের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। দলবদলে আগ্রহী সাংসদদের অধিকাংশেরই ক্ষোভ ভোটকুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর কাজকর্ম এবং আচার-আচরণ নিয়ে। পাশাপাশি দলীয় স্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত নিয়েও অনেকের মনে সুপ্ত অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজ্য রাজনীতিতে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তা এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক অত্যন্ত আস্থাভাজন নেতাও এই তালিকায় থাকায় ঘাসফুল শিবিরের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
জাতীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই দলবদল সফল হলে জাতীয় রাজনীতি এবং সংসদের অন্দরে বিজেপির শরিক নির্ভরতা অনেকটাই কমবে। বর্তমানে ২৪০টি আসন নিয়ে চন্দ্রবাবু নায়ডু ও নীতীশ কুমারের সমর্থনের ওপর ভর করে বিজেপি সরকার চালাচ্ছে। তৃণমূলের এই বিশাল অংশ পাশে এলে লোকসভায় বিজেপির নিজস্ব শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ বিলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত বিল পাসের ক্ষেত্রে মোদী সরকারকে আর কোনো আঞ্চলিক দলের বাধার মুখে পড়তে হবে না। লোকসভার এই ‘অপারেশন লোটাস’ পর্ব মিটে গেলে বিজেপির পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে রাজ্যসভায় তৃণমূলের ১৩ জন সাংসদ, যার ফলে পাঞ্জাবের আম আদমি পার্টির মতোই বাংলায় তৃণমূলের সংসদীয় শক্তি কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
