বঙ্গ দখলে বিপুল জনমত, এবার লক্ষ্য উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
১৫ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল সম্পন্ন হয়েছে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরদিন সকালে খড়্গপুরে চিরাচরিত মেজাজে চা-চক্রে যোগ দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। জয়ের আমেজ গায়ে মেখেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিজেপিকে আশীর্বাদ করেছেন, তা পূরণে কালক্ষেপ না করে দ্রুত কাজ শুরু করাই এখন নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
বিজয় পরবর্তী এই চা-চক্রে অংশ নিয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, মানুষ শাসনভার দেওয়ার পর কাজ করার জন্য যথেষ্ট সময় দেয়। সেই সময়কে সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর তারা। এদিনও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ‘বাঙালি আবেগ’ ও ‘ভূমিপুত্র’ প্রসঙ্গ। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কোনো বাঙালিই হবেন।
উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানেই মূল লক্ষ্য
রাজ্যের নতুন সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য কী হতে চলেছে, তার একটি রূপরেখা এদিন তুলে ধরেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর মতে, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাব মেটানোই হবে বর্তমান প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে মূলত মোদিজির উন্নয়নের রূপরেখা দেখে। প্রধানমন্ত্রী যে পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাকে বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নের সময় এখন এসেছে। পাশাপাশি নিজের কেন্দ্রের জয় নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি জানান, দল তাঁকে যখন যে দায়িত্ব দিয়েছে তা তিনি পালন করেছেন এবং জনগণ সেই কাজেরই স্বীকৃতি দিয়েছে।
আরজি কর ইস্যু ও জনমতের প্রভাব
ভোটের ফলে আরজি কর কাণ্ডের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ের প্রভাব অনস্বীকার্য বলে মনে করেন এই বর্ষীয়ান নেতা। তাঁর দাবি, আরজি করের ঘটনা পুরো বাংলাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। বিশেষ করে ‘অভয়ার’ মাকে যেভাবে আসাম্মান করা হয়েছিল, জনতা ব্যালট বক্সের মাধ্যমে তার যোগ্য জবাব দিয়েছে। এই জয়কে তিনি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন।
১৫ বছর পর রাজ্যে প্রত্যাবর্তনের বদলে প্রকৃত অর্থেই ‘পরিবর্তন’ এসেছে বলে দাবি করেন দিলীপ ঘোষ। এখন দেখার, পাহাড়প্রমাণ জন-প্রত্যাশা কাঁধে নিয়ে নবনির্বাচিত সরকার বাংলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্পক্ষেত্রে কতটা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
