বনগাঁ সীমান্তে ৩৬টি পয়েন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন কমিশন, দ্বিতীয় দফায় কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হচ্ছে বাংলা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোটের আগে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফার বিক্ষিপ্ত অশান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার অনুপ্রবেশ ও নাশকতা রুখতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ‘খোলা মুখ’ বা ওপেন বর্ডারগুলোর ওপর। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ সীমান্তের ৩৬টি পয়েন্টকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করে বিএসএফ-কে হাই-অ্যালার্টে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।
সীমান্তের নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি
কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সীমান্তের ৩৬টি উন্মুক্ত পথ দিয়ে বহিরাগত অনুপ্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে, যা ভোটের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে সীমান্তে তৈরি করা হয়েছে অতিরিক্ত চেকপোস্ট এবং শুরু হয়েছে কঠোর তল্লাশি অভিযান। বিশেষ করে বনগাঁ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএসএফ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত পেরিয়ে কেউ ভোট প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে না পারে।
বাহিনী মোতায়েন ও সংবেদনশীল জেলা
দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণ কলকাতা, হাওড়া এবং নদিয়া জেলাকে ‘হটস্পট’ বা সংবেদনশীল হিসেবে ঘোষণা করেছে কমিশন। ভৌগোলিক আয়তন কম হলেও নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র চাদরে ঢাকতে প্রায় ৪০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে একটি বিশাল রিজার্ভ ফোর্স। এছাড়া প্রথম দফায় বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এবার বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিরাপদ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে প্রতিটি বুথ স্যানিটাইজ করার পাশাপাশি ভোটারদের জন্য মাল্টি-লেয়ার চেকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা, যাতে তারা কোনো ভয় বা প্ররোচনার শিকার না হয়ে স্বচ্ছন্দে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
এক ঝলকে
- বনগাঁ সীমান্তে ৩৬টি খোলা পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফ-কে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
- দ্বিতীয় দফার ভোটে নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন করা হচ্ছে ৪০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী।
- দক্ষিণ কলকাতা, হাওড়া ও নদিয়া জেলাকে ভোটের জন্য ‘সংবেদনশীল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন।
- কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলা হলে প্রশাসন কঠোর ও মারাত্মক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
