বন্ধুর বেশে হিজাব ও নামাজের খেলা, কে এই লেডি ক্যাপ্টেন!

নাসিক TCS-এ যৌন নিগ্রহ ও ধর্মান্তর চক্রের পর্দাফাঁস: মূল অভিযুক্ত নিদা খান পলাতক
মহারাষ্ট্রের নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর অন্দরে যৌন নিগ্রহ এবং পরিকল্পিতভাবে ধর্মান্তরের এক ভয়াবহ নেটওয়ার্কের কথা সামনে এসেছে। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, এই পুরো চক্রটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চালানো হচ্ছিল, যার মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন নিদা খান নামের এক নারী। পুলিশ তাকে এই চক্রের ‘লেডি ক্যাপ্টেন’ বলে অভিহিত করেছে। বর্তমানে নিদা পলাতক এবং তাকে ধরতে মুম্বই ও ভিওয়ান্ডিতে বিশেষ পুলিশি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
বন্ধুত্বের মোড়কে ধর্মান্তরের নীল নকশা
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিদা খানের কৌশল ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। তিনি মূলত নতুন নারী কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করতেন। প্রথমে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তুলে তাদের বিশ্বাস অর্জন করা হতো এবং মানসিকভাবে সহজ করা হতো। এরপর পর্যায়ক্রমে তাদের নামাজ পড়া, কলমা শেখানো এবং হিজাব পরার জন্য প্রভাবিত করা হতো। নিদা একটি বিশেষ ‘নারী উইং’ তৈরি করে এই ধর্মান্তর প্রক্রিয়াকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
তদন্তের জাল ও গ্রেপ্তার
এই চক্রের জাল বিছিয়েছিল ২০২২ সাল থেকে। ২০২১ সালে কো ম্পা নিতে যোগ দেওয়া নিদা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কাজ ছেড়ে দিয়ে আত্মগোপন করেন। নাসিক পুলিশ দীর্ঘ এক মাস ধরে একটি অত্যন্ত গোপন অপারেশন চালিয়ে এই চক্রটিকে শনাক্ত করে। মহিলা পুলিশ কর্মীরা হাউসকিপিং স্টাফ সেজে কো ম্পা নির ভেতরে ঢুকে নজরদারি চালান এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য সংগ্রহ করেন।
এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন:
- দানিশ শেখ
- তৌসিফ আত্তার
- রাজা মেমন
- শাহরুখ কুরেশি
- শফি শেখ
- আসিফ আফতাব আনসারি
- একজন মহিলা অপারেশন ম্যানেজার
যৌন নিগ্রহ ও মানসিক চাপ
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে একজন নারী কর্মীর অভিযোগের পর। ওই নারী জানান, তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন নিগ্রহ করা হয়েছে এবং ধর্ম পরিবর্তনের জন্য প্রবল চাপ দেওয়া হয়েছে। পুলিশি তল্লাশিতে অভিযুক্তদের ফোন থেকে আরও অনেক নারীর ওপর একই ধরনের মানসিক ও ধর্মীয় চাপ সৃষ্টির প্রমাণ মিলেছে। এই গুরুতর অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৯টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- ঘটনা: টিসিএস নাসিক শাখায় যৌন নিগ্রহ ও পরিকল্পিত ধর্মান্তর চক্র।
- মূল অভিযুক্ত: নিদা খান (লেডি ক্যাপ্টেন), বর্তমানে পলাতক।
- কৌশল: বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে হিজাব এবং নামাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
- গ্রেপ্তার: এখন পর্যন্ত ৭ জন অভিযুক্ত আটক।
- তদন্ত: নাসিক পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) ঘটনার গভীরে তদন্ত চালাচ্ছে।
