বন্ধের মুখে কি দুয়ারে রেশন, বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন খাদ্যমন্ত্রী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক রদবদল ঘটছে। এবার পূর্ববর্তী সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় ও চর্চিত প্রকল্প ‘দুয়ারে রেশন’ বন্ধ হওয়া নিয়ে বড়সড় জল্পনা তৈরি হয়েছে। খোদ নতুন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য এই ইঙ্গিতকে আরও জোরালো করে তুলেছে, যার ফলে রাজ্যজুড়ে রেশন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ।
দুয়ারে রেশন নিয়ে আইনি জটিলতা ও কেন্দ্রের অবস্থান
২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রাহকদের সুবিধার্থে পাড়ায় পাড়ায় রেশন পৌঁছে দেওয়ার জন্য ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প চালু করেছিলেন। তবে শুরু থেকেই এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন রেশন দোকানদারদের একাংশ। আইনি লড়াই গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। পরবর্তীতে এই মামলায় যুক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারও শীর্ষ আদালতে সাফ জানিয়ে দেয় যে, জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় চলা ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’র খাদ্যশস্য এভাবে বণ্টন করা নিয়মবিরুদ্ধ। কেন্দ্রের যুক্তি, দেশে ‘ওয়ান নেশন ওয়ান রেশন কার্ড’ ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যেখানে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে গ্রাহকরা রেশন তুলতে পারেন, যা দুয়ারে রেশন ব্যবস্থার কারণে ব্যাহত হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার শুনানি শেষ করে রায়দান স্থগিত রেখেছে।
নতুন সরকারের অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর স্বাভাবিকভাবেই এই হাইপ্রোফাইল মামলা নিয়ে আদালতের অন্দরে রাজ্যের অবস্থানে বদল এসেছে। বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন, রেশন আইনে অনুমোদন থাকলে তবেই এই প্রকল্প চালু থাকবে, অন্যথায় তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। মন্ত্রীর এই মন্তব্যে কার্যত সিলমোহর পড়েছে প্রকল্প বাতিলের আশঙ্কায়।
যদি এই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়, তবে গ্রাহকদের আবার আগের মতো রেশন দোকানে গিয়ে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে হবে। অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসুর মতে, এই প্রকল্পে রেশন ডিলারদের অতিরিক্ত কমিশন বা আর্থিক সুবিধা দেওয়া হলেও বাস্তবে তেমন কোনো লাভ হচ্ছিল না। ফলে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি আইনি বৈধতা এবং নতুন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
