বর্ষার আগেই বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের, কেন্দ্রকে সাথে নিয়ে এবার বাস্তবায়িত হচ্ছে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের শাসনভার পরিবর্তনের পর থমকে থাকা মেগা প্রকল্পগুলিতে গতি আনতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল নতুন প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপোড়েনে ঝুলে থাকা ‘ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান’ এবার দ্রুত বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি হয়েছে। সোমবার নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের ৩৪টি দফতরের সচিবদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকেই মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এই বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে রূপায়ণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের ৫০:৫০ সূত্র
বিগত সরকারের আমলে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এককভাবে কাজ শুরুর ঘোষণা করেছিলেন। ১২৭০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য প্রথম দফায় ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। তবে বঙ্গে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতেই ছবিটা বদলে গেল। নবান্নের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এবার কেন্দ্রকে সাথে নিয়েই এই মাস্টারপ্ল্যান কার্যকর করা হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ৫০ শতাংশ কেন্দ্র এবং বাকি ৫০ শতাংশ রাজ্য সরকার যৌথভাবে বহন করবে। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দফতরকে দ্রুত চূড়ান্ত পরিকল্পনা ও আর্থিক বরাদ্দ প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
জলযন্ত্রণা ও বন্যা থেকে স্থায়ী মুক্তির আশা
প্রতি বছরই বর্ষার মরশুমে ঘাটাল ও তার সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে যায়, যা সাধারণ মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ ডেকে আনে। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও সরকার গড়লে এই সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন যৌথ ফর্মুলায় ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান দ্রুত বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম মেদিনীপুর ও তার আশপাশের জেলাগুলি স্থায়ীভাবে বন্যা ও জলযন্ত্রণা থেকে রেহাই পাবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এক ঝলকে
- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে নবান্নের বৈঠকে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান দ্রুত বাস্তবায়নের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ৫০-৫০ শতাংশ ব্যয়ের ভিত্তিতে এই দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পটির কাজ সম্পূর্ণ করা হবে।
- ১২temp কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের কাজ তরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে আর্থিক বরাদ্দ চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
- এই প্রকল্প সফল হলে পশ্চিম মেদিনীপুর ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ প্রতি বছরের ভয়াবহ বন্যা ও জলযন্ত্রণা থেকে পাকাপাকি মুক্তি পাবেন।
